বিজয় কৃষ্ণ বিক্রমঃ সালটি ২০১৬, ১ লা সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার ভোরের সূর্য ফুটে ওঠার আগেই মোবাইল ফোনে ভীষ্মদেব বাড়ৈ এর কাছে আসে সেই চরম হৃদয় বিদায়ক খবর। আমাদের সকলের প্রিয় শিক্ষক, সর্বজন শ্রদ্ধেয় শিক্ষাগুরু শ্রী সত্যেন্দ্র নাথ সরকার স্যার আর ইহজগতে নেই, যিনি ছিলেন আমাদের সকলের প্রিয় শিক্ষাঙ্গন কারফা পাবলিক একাডেমী, উজিরপুর, বরিশাল এর বিজ্ঞান বিষয়ের স্বনামধন্য শিক্ষক।
ভীষ্মদেব বাড়ৈ- যিনি হলেন সত্যেন্দ্রনাথ স্যারের প্রিয় ছাত্রদের মধ্যে অন্যতম- তিনি এ মর্মান্তিক খবরটি শোনা মাত্র তাঁর হৃদয়ের আকুতি সম্বলিত একটি কবিতা এবং স্যারের পরলোক গমনের খবরটি তাঁর ফেসবুকে পোস্ট করেন। তখন তিনি কেবল ঘুম থেকে উঠেছেন। খবরটি শুনে কবি ভীষ্মদেব বাড়ৈ হঠাৎ করে প্রচন্ড ধাক্কা খান, তিনি ভীষন ভাবে মর্মাহত হন এবং মুষড়ে পড়েন। কেননা সত্যেন্দ্র নাথ স্যার ছিলেন তাঁর কাছে একজন মহামানব, তিনি তাঁর কাছে শুধু শিক্ষকই ছিলেন না, ছিলেন একজন অভিভাবক এবং পথ প্রদর্শক।
ভীষ্মদেব বাড়ৈ এর মনে পড়ে যায় দু’মাস আগের কথা, স্যার তাকে বুকে জড়িয়ে তার কনিষ্ট পুত্র শুভাশিসের পড়াশুনা দেখভালের জন্য অনুরোধ করেন। ভীষ্মদেব এ সময় স্যারকে আশ্বস্ত করেছিলেন। মৃত্যু পূর্ব কালীন সময়ে স্যার তাঁর পরিবারের জন্য তেমন কিছুই রেখে যেতে পারেননি।ভীষ্মদেব বাড়ৈ স্যারের পুত্রের জন্য কিছু একটা করার তীব্র যন্ত্রনা অনুভব করছিলেন।
এ বিষয়ে প্রথমে তিনি তাঁর সহধর্মিনী শ্রীমতি চন্দনা বিশ্বাসের সাথে আলোচনা করেন। শ্রীমতি চন্দনা বিশ্বাস, প্রধান শিক্ষক (প্রয়াত অধ্যাপক, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও দানবীর শ্রী বলরাম বিশ্বাসের কন্যা) বিষয়টিতে ভীষণ উৎসাহ যোগান। ইতোঃমধ্যে স্যারের মৃত্যু এবং তাঁর সস্তানের অধ্যয়ন সহযোগিতা নিয়ে নিজস্ব ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন শ্রী সঞ্জিত মন্ডল(কর্মকর্তা-সিগমা অয়েল),গ্রাম-সাতলা। তাৎক্ষনিকভাবে কবি ভীষ্মদেব বাড়ৈ, সঞ্জিত মন্ডলের সাথে স্যারের ছোট সন্তানের জন্য কিছু একটা করার মনোবাসনা ব্যক্ত করেন। সঞ্জিত মন্ডল রাজি হয়ে যান।
বিষয়টি নিয়ে কবি ভীষ্মদেব আরো যাঁদের সাথে আলোচনা করেন তারা হলেন শ্রী সদানন্দ বিশ্বাস (প্রভাষক),গ্রাম-পীরেরপাড়; শ্রী বিজয় কৃষ্ণ বিক্রম (প্রধান শিক্ষক, পীরেরপাড় সঃ প্রাঃ বিঃ,) গ্রাম- পীরেরপাড়; শ্রী রিপন মজুমদার (স্বেচ্ছসেবী) গ্রাম-কারফা; শ্রী গোপাল চন্দ্র সমদ্দার ( সহকারী অধ্যাপক),গ্রাম-পীরেরপাড়; শ্রী প্রনব কান্তি হাওলাদার (ব্যবসায়ী ও সমাজসেবী), গ্রাম-কুড়লিয়া; শ্রী পীযূষ বিশ্বাস (পৌর সচিব) গ্রাম- কারফা, শ্রী সুমন চন্দ্র ঢালী (প্রধান শিক্ষক), গ্রাম-মোল্লাপাড়া; শ্রী মিঠুন সমদ্দার (ব্যবসায়ী ও সমাজসেবী), গ্রাম-পীরেরপাড়; শ্রী বাসুদেব বিশ্বাস (ইঞ্চিনিয়ার), গ্রাম- কারফা; শ্রী অমল সরকার (ব্যাংকার), গ্রাম- কারফা; শ্রী সঞ্জয় সরকার(কর্মকর্তা), গ্রাম-পীরেরপাড়; শ্রী পরিমল বিশ্বাস (ব্যাংকার), গ্রাম- কারফা;, শ্রী নারায়ন মজুমদার (তহশিলদার), গ্রাম-ভাউধর; শ্রী অপু মন্ডল (ব্যাংকার), গ্রাম- কারফা; শ্রী প্রমথ ব্যানার্জী (সেচ্ছাসেবী), গ্রাম- কারফা; শ্রী দীনেশ বাড়ৈ (জিএম ও সমাজসেবী), গ্রাম-বিলগাববাড়ী; শ্রী অনিল বিশ্বাস(ব্যবসায়ী),গ্রাম-কারফা; শ্রী অরবিন্দু বৈদ্য (প্রভাষক), গ্রাম- কারফা; শ্রী চিত্ত রঞ্জন হালদার (প্রভাষক), গ্রাম- কারফা; শ্রী দিলিপ সমদ্দার(ব্যবসায়ী),গ্রাম-পীরেরপাড়; শ্রী সুভাষ চন্দ্র বাড়ৈ(চাকুরী), গ্রাম-জল্লা; শ্রী রতন সরকার(চাকুরী), গ্রাম- জল্লা; শ্রী রনজিত কুমার মধু(চাকুরী), গ্রাম-কুড়লিয়া; শ্রী সবুজ রায(ব্যবসা) গ্রাম-কারফা; শ্রী দুলাল বিশ্বাস(চাকুরী),গ্রাম-কারফা, কবি লিটু (স্বেচ্ছসেবী) গ্রাম-,কারফা প্রমুখ।
সকলের কাছ থেকে তিনি অভূতপূর্ব সাড়া পান। সকলের সহযোগিতা গ্রহণ করে ২০১৬ এর অক্টোবর মাসের একটি বিশেষ দিনে শ্রী সদানন্দ বিশ্বাস, শ্রী বিজয় কৃষ্ণ বিক্রম, কবি ভীষ্মদেব বাড়ৈ, শ্রীমতি চন্দনা বিশ্বাস, শ্রী সুমন চন্দ্র ঢালী, শ্রী গোপাল চন্দ্র সমদ্দার ও শ্রী দুলাল বাড়ৈ- প্রয়াত সত্যেন্দ্রনাথ সরকার স্যারের বাড়ি গিয়ে তার সহধর্মীনি শ্রীমতি ঝর্ণা রায় এর নিকট শুভাশিস এর পড়াশুনার জন্য একটি সন্তোষজনক আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
সৃষ্টিকর্তার অশেষ কৃপায় ও প্রয়াত সত্যেন্দ্রনাথ সরকার স্যারের আশির্বাদে শুভাশিস ২০১৭ শিক্ষাবর্ষে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করে।
উল্লেখ্য, এ বিষয়ে সাংবাদিক শ্রী প্রণয় বিশ্বাসের ভূমিকা অনস্বীকার্য। কবি ভীষ্মদেব বাড়ৈ যখন থেকে স্যারের পুত্র শুভাশিষের জন্য কিছু করার মানসে কার্য্যক্রম শুরু করেছিলেন, তখন মানুষের ভিতরে মানুষের জন্য কিছু করার যে অঙ্গীকার সেটি তাঁকে ভীষণ মুগ্ধ করে। তিনি প্রাণিত হন। যদিও কিছু সমালোচকরা নেতিবাচক মন্তব্য ও বিরূপ আচারন করেছিল, কিন্তু তার কোনটিই কবি ভীষ্মদেব বাড়ৈকে দমাতে পারেনি। তিনি মনে মনে সুবিধাবঞ্চিত তথা দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা দিয়ে লেখাপড়া চালাতে সহযোগিতা করার জন্য তাঁর আজন্ম লালিত স্বপ্ন- একটি স্থায়ী সংগঠন করার চিন্তা ভাবনা করেন।
এ বিষয়েও তিনি তার সহধর্মিনী শ্রীমতি চন্দনা বিশ্বাসের সাথে আলোচনা করেন। স্বামীর এ জাতীয় সুন্দর মানসিকতার জন্য তাকে ধন্যবাদ দেন এবং এরকম একটি সংগঠন করার জন্য উৎসাহ প্রদান করেন। সেদিন সত্যেন্দ্রনাথ স্যারের বাড়ি থেকে ফেরার পথে কবি ভীষ্মদেব বাড়ৈ বিষয়টি উল্লেখিত স্বজ্জনদের সাথে আলোচনা করেন। তাঁরা সকলে এ বিষয়ে একমত পোষন করেন।
বরিশাল ফিরে কবি ভীষ্মদেব বাড়ৈ একাধিক বার তার অফিসে, অফিস ছুটির পরে এ বিষয়ে শ্রী সদানন্দ বিশ্বাস ও শ্রী বিজয় কৃষ্ণ বিক্রমকে নিয়ে বৈঠক করেন। প্রথম যেদিন শ্রী ভীষ্মদেব বাড়ৈ তার অফিস শেষে শ্রী বিজয় কৃষ্ণ বিক্রমকে তার অফিসে নিয়ে আলোচনা করেন সেদিনই শ্রী বিজয় কৃষ্ণ বিক্রম এই জাতীয় একটি সংগঠন করার স্বপ্নের কথা প্রকাশ করেন ও শ্রী ভীষ্মদেব বাড়ৈকে ধন্যবাদ দেন এবং সর্বোচ্চ সহযোগিতার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি এর সাথে আরো যোগ করেন যে, ঢাকায় বসবাসরত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক উজিরপুরের পীরেরপাড় নিবাসী শ্রী বিমলেন্দু সমদ্দার এরকম একটি সংগঠন করার প্রস্তাব করেছিলেন। তাই তাঁকেও আমাদের এই যাত্রায় যুক্ত করা যেতে পারে।
শ্রী ভীষ্মদেব বাড়ৈ এক্ষেত্রে আনন্দ চিত্তে সম্মত হন। পরবর্তীতে শ্রী সদানন্দ বিশ্বাস, শ্রী ভীষ্মদেব বাড়ৈ, শ্রী বিজয় কৃষ্ণ বিক্রম একত্রে অনেকগুলো বৈঠক করেন এবং শ্রী বিজয়কৃষ্ণ বিক্রমকে একটি সংবিধান রচনার দায়িত্ব প্রদান করা হয়। তখনই সেবামূলক অরাজনৈতিক সংগঠনের জন্য ভীষ্মদেব বাড়ৈ প্রস্তাব করেন যে, এই সংগঠনের নাম হবে “সোনারতরী”। বাকি দুইজনের নামটি ভীষন পছন্দ হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বরিশালস্থ শ্রী সদানন্দ বিশ্বাসের বাসায় এই সংগঠনের প্রথম অনানুষ্ঠানিক ঘরোয়া সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শ্রী সদানন্দ বিশ্বাস, শ্রী ভীষ্মদেব বাড়ৈ, শ্রী বিজয় কৃষ্ণ বিক্রম। উক্ত সভায় শ্রী বিজয় কৃষ্ণ বিক্রম খসড়া সংবিধান উপস্থাপনা করেন এবং সংগঠনের পূর্ণ নাম দেন “সোনারতরী এডুকেশন অ্যান্ড সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন” এবং এর সংক্ষিপ্ত রূপ “স্টেসডু”। প্রাথমিকভাবে উপস্থিত সকলে সংবিধানের ধারা সমূহ পছন্দ করেন এবং পূর্ণ নামকে সমর্থন করেন। এই সভায় সংগঠনের বিভিন্ন কর্যক্রম পরিচালনা এবং বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা ও যোগাযোগের জন্য শ্রী ভীষ্মদেব বাড়ৈ কে আহ্বায়ক করা হয়। পরবর্তীতে শ্রী সদানন্দ বিশ্বাস ও শ্রী ভীষ্মদেব বাড়ৈ সংবিধানের পর্যালোচনা করেন।
কর্মসংস্থান ব্যাংক, বরিশাল শাখার ডাটা এন্ট্রি অপারেটর জনাব মোঃ মাজাহারুল ইসলাম এর সহায়তায়, অক্লান্ত প্রচেষ্টায় শ্রী ভীষ্মদেব বাড়ৈ, শ্রী বিজয় কৃষ্ণ বিক্রমের সংবিধানটি বই আকারে একটি পূর্ণাঙ্গরূপ প্রদান করেন। ইহাতে কবি ভীষ্মদেব বাড়ৈ সহ শ্রী সদানন্দ বিশ্বাস ও শ্রী বিজয় কৃষ্ণ বিক্রমের মনে লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়নের এক স্বর্গীয় জোয়ার বয়ে যায়। সংগঠনের জন্য দলীয় সংগীত রচনা করেন শ্রী বিজয় কৃষ্ণ বিক্রম এবং সুর দেন বিশিষ্ট গীতিকার শ্রী গোপাল কৃষ্ণ গুহ (রিপন)। সংগঠনের জন্য কবিতা রচনা করেন কবি ভীষ্মদেব বাড়ৈ। শ্রী বিজয় কৃষ্ণ বিক্রম এর পরিকল্পনায় এবং শ্রী ভীষ্মদেব বাড়ৈ এর নির্দেশনায় সংগঠনের মনোগ্রাম ডিজাইন করেন শ্রী সুবাস চন্দ্র বাড়ৈ। অবশেষে উপস্থিত হয় সেই মহেন্দ্রক্ষণ ৯ই ডিসেম্বর ২০১৬। “সোনারতরী এডুকেশন অ্যান্ড সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন” এর প্রথম আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। এদিন ২৫নং পীরেরপাড় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে “সোনার তরী’র” প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনা করেন আহ্বায়ক শ্রী ভীষ্মদেব বাড়ৈ।
উক্ত সভায় শ্রী সদানন্দ বিশ্বাসকে সভাপতি ও শ্রী সঞ্জিত মন্ডলকে সাধারন সম্পাদক করে ১৭ সদস্য বিশিষ্ট ৩ বছরের জন্য একটি কার্যকরী পরিষদ গঠিত হয়। পরিষদের অন্যান্য সদস্যরা হলেন-
১। সহ-সভাপতি- শ্রী বিমলেন্দু সমদ্দার।
২। সহ-সভাপতি- শ্রী সুমন কুমার ঢালী।
৩। সহ-সাধারন সম্পাদক- শ্রী বাসুদেব বিশ্বাস।
৪। সহ-সাধারন সম্পাদক-শ্রী অমল চন্দ্র সরকার।
৫। সাংগঠনিক সম্পাদক- শ্রী বিজয় কৃষ্ণ বিক্রম।
৬। সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক- শ্রী প্রমথ ব্যানার্জী।
৭। কোষাধ্যক্ষ সম্পাদক-শ্রী ভীষ্মদেব বাড়ৈ।
৮। সহ-কোষাধ্যক্ষ সম্পাদক-শ্রী অপু মন্ডল।
৯। প্রচার সম্পাদক-শ্রী মিঠুন সমদ্দার।
১০। সহ- প্রচার সম্পাদক-শ্রী সবুজ রায়।
১১। সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক-শ্রী অরবিন্দু বৈদ্য।
১২। সহ- সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক-শ্রী সঞ্জয় সরকার।
৩ জন নির্বাহী সদস্যঃ
১৩। শ্রী নারায়ন চন্দ্র মজুমদার।
১৪। শ্রী রনজিত বিশ্বাস।
১৫। শ্রী সুবাস চন্দ্র বাড়ৈ।
এছাড়াও সভায় ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠিত হয়। উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা হলেন-
০১। শ্রী গোপাল সমদ্দার।
০২। ডঃ চিন্ময় হাওলাদার।
০৩। শ্রী প্রনব কান্তি হাওলাদার।
০৪। শ্রীমতি চন্দনা বিশ্বাস।
০৫। শ্রী পীযূষ কান্তি বিশ্বাস।
এই জাতীয় একটি অরাজনৈতিক, সামাজিক, মানবিক এবং সেবামূলক প্রতিষ্ঠানকে বাস্তবে রূপদান করার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করার জন্য কবি ভীষ্মদেব বাড়ৈকে সংগঠনের রূপকার এবং শ্রী বিজয় কৃষ্ণ বিক্রম, শ্রী সদানন্দ বিশ্বাস ও শ্রীমতি চন্দনা বিশ্বাস এই ব্যক্তিত্রয়কে সংগঠনের সহযোগী রূপকার হিসেবে বিবেচনা করার সিদ্ধান্ত উপস্থাপিত হয়। যেহেতু কবি ভীষ্মদেব বাড়ৈ আহ্বায়ক থেকে এই বিশাল কর্মযজ্ঞটিকে অক্লান্ত পরিশ্রম করে বাস্তব রূপদান দিতে মূখ্য ভূমিকা রেখেছেন, সেজন্য তাঁকে সংগঠনের রূপকার এবং শ্রী বিজয় কৃষ্ণ বিক্রম বাবু, শ্রী সদানন্দ বিশ্বাস ও শ্রীমতি চন্দনা বিশ্বাসকে রূপদান সহায়তাকারী হিসেবে বিবেচনা করার সিদ্ধান্ত সভায় সর্ব-সম্মত ভাবে গৃহিত হয়।
উল্লেখ্য, রূপকারের এই কাজে সবসময় পাশে থেকে উৎসাহ যোগান এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেন তাঁর সহ-ধর্মিনী শ্রীমতি চন্দনা বিশ্বাস। ২৬ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখের পর থেকে কর্যকরী পরিষদের সভা থেকে প্রথম মেধাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে কবি ভীষ্মদের বাড়ৈ কে আহ্বায়ক করে একটি উপ-পরিষদ গঠিত হয়। উপ-পরিষদের অন্যান্য সদস্যরা হলেন-
১। শ্রী সুমন কুমার ঢালী।
২। বিজয় কৃষ্ণ বিক্রম।
৩। চন্দনা বিশ্বাস।
৪। সবুজ রায়।
ভীষ্মদেব বাড়ৈ এর আহ্বানে উপ-পরিষদের একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ১৩ জানুয়ারী ২০১৭ তারিখ উক্ত সভা থেকে প্রথম মেধাভিত্তির প্রাপ্তদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়। যে ৬জনকে প্রথম মেধা বৃত্তি প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়, তারা হল-
১। অনিক কীর্ত্তনীয়া।
২। সাগরিকা।
৩। নিপা সমদ্দার
৪। বিউটি মজুমদার।
৫। সৈকত হালদার।
৬। পার্থ ওঝা।
২০ জানুয়ারী ২০১৭ শুক্রবার সোনারতরীর জন্য একটি স্মরণীয় অধ্যায়। এইদিন পীরেরপাড় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় একটি বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কিছু বিদগ্ধ লোকের অংশগ্রহনের মধ্য দিয়ে সোনারতরী যাত্রা শুরু করে তার আনুষ্ঠানিক পথচলা। এই দিন সোনারতরী প্রথম মেধাবৃত্তি প্রদান করে। এই ভাবেই শুরু হয় কবি ভীষ্মদেব বাড়ৈ এর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন সোনারতরী শুভযাত্রা। সোনারতরীর ডোনার সদস্য দেশের ১০টি জেলার প্রায় ১০০জন মহান ব্যক্তি ও মানবপ্রেমী ব্যক্তিবর্গ।
প্রথম মেধা প্রদান অনুষ্ঠানে যারা অংশগ্রহন পূর্বক আলোচনায় অংশগ্রহন করে এবং অমূল্য পরামর্শ দিয়ে সোনারতরীকে ঋদ্ধ করেছেন তাঁরা হলেন- বাবু সুধীর রঞ্জন বিক্রম (প্রক্তন প্রধান শিক্ষক, পীরেরপাড় সঃ প্রাঃ বিঃ), বাবু মাখনলাল সমদ্দার (পীরেরপাড়), বাবু মানব প্রকাশ বৈদ্য শংকর (প্রভাষক, কারফা), বাবু শংকর বিশ্বাস (লিটু)- কারফা, বাবু সুকুমার বাড়ৈ- মাদ্রা, বাবু ব্রজেন্দ্র নাথ সরকার (সহকারী শিক্ষক), বাবু স্বদেশ চন্দ্র বিশ্বাস (সহকারী শিক্ষক, পটিবাড়ি সঃ প্রাঃ বিঃ) এবং প্রধান অতিথি ড. বিনয় ভূষন রায় (অধ্যক্ষ, জল্লা ইউঃ আইডিয়াল কলেজ, উজিরপুর, বরিশাল) প্রমুখ।
দ্বিতীয় ধাপ সোনারতরী আরো পাঁচ জনের মেধাবৃত্তি প্রদান করে। ২০/০৬/২০১৭ তারিখ জল্লা ইউনিয়ন আইডিয়াল কলেজ, কারফা, উজিরপুর, বরিশাল -এর অডিটরিয়ামে একটি সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় ধাপে আরো পাঁচ জনকে মেধাবৃত্তি প্রদান করা হয় । দি¦তীয় ধাপ মেধাবৃত্তি প্রাপ্তরা হলো-
১। বিকাশ হালদার – কারফা
২। অনুপা সরকার – কারফা
৩। দেবাশীষ ঘরামী – উজিরপুর
৪। বিকাশ হালদার – হারতা
৫। দীপঙ্কর সরকার – থানেস্বর কাঠী
দ্বিতীয় ধাপের মেধাবৃত্তি প্রদানে অনুষ্ঠানে কিছু সম্মানিত ব্যক্তি বর্গ উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানকে পরিপূর্ণ এবং অর্থবহ কওে সোনারতরীকে একটি সম্মানের জয়গায় নিয়ে যান তাঁরা হলেন-শ্রী সুধীর রঞ্জন বিক্রম (প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক পীরের পাড় সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়,উজিরপুর, বরিশাল,) শ্রী গোপাল কৃষ্ণ বসাক (অধ্যক্ষ, সৈয়দকাটি ইউনিয়ন ইসলামিয়া কলেজের বানারীপাড়া, বরিশাল), ড. বিনয় ভূষন রায় (অধ্যক্ষ, জল্লা ইউনিয়ন আইডিয়াল কলেজ উজিরপুর,বরিশাল) শ্রী নিখিল বিশ্বাস (প্রভাষক, জল্লা ইউনিয়ন আইডিয়াল কলেজ কারফা,উজিরপুর,বরিশাল), শ্রী সুবাস জয়ধর, সিএ (থানেশ্বরকাঠী), প্রণয় কান্তি বিশ্বাস (সহকারী প্রধান শিক্ষক, বিলগাববাড়ি প্রাঃ বিদ্যালয়), কবি লিটু হালদার, শ্রী গোপাল চন্দ্র সমদ্দার, শ্রী বিমলেন্দু সমদ্দার, শ্রী শংকর বিশ্বাস (লিটু), কবি বরীন্দ্রনাথ সরকার, শ্রীমতি মঞ্জুশ্রী সমদ্দার প্রমূখ।
২০১৭ সালের শেষ দিকে। ৩০ শে সেপ্টেম্বর শনিবার। সোনারতরী আয়োজন করে একটি শোকসভায়। যেখানে তিনজন বিশিষ্ট ব্যক্তির সমৃদ্ধ জীবন নিয়ে আলোচনা করা হয়। সেই স্মরণ সভায় যাঁদেরকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরন করা হয়, তাঁরা হলেন বিশিষ্ট শিক্ষনুরাগী কারফা সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান প্রধান শিক্ষক, স্বর্গীয় অনিলচন্দ্র ঢালী, সোনারতরীর সম্পাদক শ্রী সঞ্জিত মন্ডলের পিতা, পটীবাড়ি নিবাসী স্বর্গীয় হরিমোহন মন্ডল এবং সোনারতরীর সদস্য বাহেরঘাট নিবাসী স্বর্গীয় আনন্দমোহন মজুমদার। স্মরন সভার পওে সদস্যদের একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত স্মরনসভা অন্যান্যের মধ্যে যে সকল সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থেকে স্মরনসভাকে অর্থবহ করে তুলেছেন- তারা হলেন শ্রী সুশীল কুমার ওঝা (প্রধান শিক্ষক, কারফা পাবলিক একাডেমী), বাবু মিন্টু কুমার মন্ডল (এ্যাডভোকেট, হাই কোর্ট), বাবু স্বদেশ কুমার বিশ্বাস (সহকারী শিক্ষক, পটিবাড়ি সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়), বাবু মানব প্রকাশ বৈদ্য শংকর (সহকারী অধ্যাপক), বাবু দেবদাস হালদার (সহকারী অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) এবং ডঃ চিন্ময় হাওলাদার (অধ্যাপক, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়)।
স্মরণসভা শেষে সোনারতরী সদস্যদের একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই মতবিনিময় সভা থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়। সাধারন সম্পাদক সঞ্জিত মন্ডলের বিদেশ গমনের কারনে সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় কৃষ্ণ বিক্রমকে ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এই সভা থেকেই ‘স্টেসডু’র একটি নিজস্ব ওয়েবসাইট ডেভেলপ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সোনারতরীর নিজস্ব ওয়েবসাইট তৈরীতে এককভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন কর্মসংস্থান ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার ও আইটি বিশেষজ্ঞ জনাব মোঃ আরিফুজ্জামান এবং তাঁকে পরিকল্পনায় সহায়তা করেছেন সোনারতরীর রূপকার শ্রী ভীষ্মদেব বাড়ৈ। সোনারতরীর “Sonar Tori” নামে একটি নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল আছে। এছাড়া সোনারতরীর ই-মেইল- sonartori0016@gmail.com এবং নিজস্ব ওয়েবসাইট-http://www.sonartori.org
সোনারতরীর রূপকার শ্রী ভীষ্মদেব বাড়ৈ এবং সোনারতরীর কর্তৃপক্ষ সকল সদস্য তথা অনুদাতা ও শুভকাঙ্খীদের সীমাহীন কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনসহ এবং সোনারতরীর এই পথ চলা যেন চির অটুট থাকে সেজন্য সকলের আশির্বাদ ও সহযোগিতা কামনা করেন।





