মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হক বাংলাদেশের জন্য নবনির্মিত সমুদ্র গবেষণা ও জরিপ জাহাজ আনতে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে আজ বুধবার রাতে ঢাকা ত্যাগ করছেন। আগামী মে মাসের মধ্যে জাহাজটি দেশে পৌঁছুবে। সাড়ে ৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নবনির্মিত ‘আরভি মীন সন্ধানী’জাহাজটির সমুদ্র ট্রায়াল ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। মন্ত্রী ১১ এপ্রিল রাতে দেশে ফিরে আসবেন।
নতুন জাহাজটির ফিটনেস পরীক্ষার জন্য তার সফরসঙ্গী বিশেষজ্ঞদলের অন্যান্য সদস্যরা হলেন- বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) মো. মাকসুদ আলম, সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের শিপ সার্ভেয়ার ও এক্সামিনার নাজমুল হক, জাহাজটির স্কিপার মো. রাশিদুল করিম, মৎস্য অধিদপ্তরের ডিজি সৈয়দ আরিফ আজাদ, বাংলাদেশ মেরিন ফিশারিজ ক্যাপাসিটি বিল্ডিং প্রকল্পের পরিচালক এবিএম আনোয়াররুল ইসলাম ও মন্ত্রীর এপিএস মো. মিজানুর রহমান।
বাংলাদেশের সামুদ্রিক জলসীমায় অত্যন্ত মূল্যবান মৎস্যসম্পদের টেকসই আহরণ ও সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনার স্বার্থে সমুদ্রসম্পদের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ প্রবণতা জানতে অত্যাধুনিক জরিপ কার্যক্রম জরুরি। আর সে লক্ষ্যেই মৎস্য অধিদপ্তরের সামর্থ্য উন্নয়নে সরকার ‘মেরিন ফিশারিজ ক্যাপাসিটি বিল্ডিং প্রকল্প’র আওতায় জাহাজটি আমদানি করছে।
জাহাজটির সহায়তায় দুই ধরনের সমুদ্রজরিপ যেমন (১) ল্যান্ড বেজড সার্ভে (২) পিলাজিক ও ডিমার্সাল সার্ভের মাধ্যমে সমুদ্রসম্পদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। প্রাপ্ত ওই ধারণার ওপর ভিত্তি করে সহনশীল/স্থায়িত্বশীল মৎস্য আহরণের মাত্রা নির্ধারণ এবং আহরণ বজায় রাখার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও তখন গ্রহণ করা সম্ভব হবে।
বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত প্রায় ৫৭ হাজার ছোট-বড় নৌকা ও দেড়শ ট্রলারের হালনাগাদ তথ্যও জানা যাবে এ জরিপ জাহাজের মাধ্যমে।
সে লক্ষ্যেই ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক ও মালয়েশিয়া সরকারের আর্থিক সহায়তায় ১৬৫ কোটি ৪৫ লাখের অধিক অর্থ ব্যয়ে ‘বাংলাদেশ মেরিন ফিশারিজ ক্যাপাসিটি বিল্ডিং প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পের মেয়াদ জুলাই-২০০৭ থেকে জুন-২০১৭ পর্যন্ত। জাহাজটির মাধ্যমে আগামী ২০ থেকে ২৫ বছর অব্যাহতভাবে গবেষণা ও সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদের জরিপ কাজ চালানো যাবে। জরিপকার্য সমাপ্ত হলে প্রদত্ত দিকনির্দেশানুযায়ী সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা সম্ভবপর হবে এবং উপকূলীয় এলাকার প্রায় ৫ লাখ মৎস্যজীবির জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।





