× Banner
সর্বশেষ
প্রাথমিক শিক্ষায় গুণগত পরিবর্তনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের ‘পুরস্কার ও তিরস্কার’ নীতি অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রকৃত দেশপ্রেমিক কখনো দুর্নীতিবাজ হতে পারেন না – বিমানমন্ত্রী চা শিল্পের উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়তে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে – আইনমন্ত্রী পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর স‌ঙ্গে আইএফআরসির প্রধানের বিদায়ী সাক্ষাৎ রপ্তানিতে ৬৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য নির্ধারণ, ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে কাজ করছে সরকার – ভারপ্রাপ্ত স্পিকার চাকরি না খুঁজে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী হোন – মির্জা ফখরুল দক্ষিণ কোরিয়া ও আরব আমিরাতের সঙ্গে এফটিএ আলোচনা শেষ পর্যায়ে – বাণিজ্যমন্ত্রী

খ্রিস্টান বা মুসলিম নয়, জন্মভিত্তিক জাতিভেদই হিন্দু জনসংখ্যা কমে যাওয়ার কারণ

admin
হালনাগাদ: বৃহস্পতিবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৯

দেবাশীষ মুখার্জী(কুটনৈতিক প্রতিবেদক):  বাংলাদেশে খ্রিষ্টানদের সংখ্যা খুবই অল্প। সাধারণত বাংলাদেশের আদিবাসী ও অবহেলিত হিন্দুদের একটি অংশ খ্রীষ্টধর্মে ধর্মান্তরিত হয়েছে। এই খ্রিষ্টানরা আবার পরস্পর-বিরোধী একাধিক উপমতে বিভক্ত। তাদের মতাদর্শগত বিভক্তি সাংঘর্ষিক নয়।
প্রতিটি চার্চ, তাদের অনুসরণকারী সমাজকে সুদৃঢ় ভাবে ধরে রাখতে পেরেছে। পারিপার্শ্বিক বিপজ্জনক প্রতিকূলতা থেকে নিজস্ব সমাজকে রক্ষা করে চলেছে। সামাজিক কর্মসংস্থানের মধ্য দিয়ে, দরিদ্রতর খ্রিষ্টানদের রুটি-রুজির ব‍্যবস্থা করছে। ঢাকা শহরের মতো অতিমূল‍্যায়িত জায়গায়, ক্ষুদ্র খ্রিষ্টান সম্প্রদায় তাদের মূল‍্যবান ভূসম্পত্তি দাপটের সাথে ভোগ-দখল করছে। খ্রিষ্টানরা দেশব‍্যাপী কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গড়ে তুলেছে। সেগুলো তারা কঠোর নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত করে, গুণগত মান অক্ষুন্ন রেখেছে।
বাংলাদেশের শহর-বন্দর-গ্রামের আনাচে কানাচে, যত মান-সম্মত স্কুল-কলেজ তার অধিকাংশই হিন্দুদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। হিন্দুরা ঐ সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, খ্রীষ্টধর্মাবলম্বী বৃটিশদের শাসনামলে বিনির্মাণ করেছে। বৃটিশরা চলে যাওয়ার পর, হিন্দুরা ঐসমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্তৃত্ব ধরে রাখা তো দূরের কথা – তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে তাদের নিজস্ব বিশাল ভূসম্পত্তিই ধরে রাখতে পারেনি। খ্রিষ্টান-বৃটিশদের শাসনামলে যে হিন্দুরা, এই ভূখণ্ডে রাজার হালে বসবাস করতো; তারা বৃটিশ চলে যাওয়ার পরে, সর্বস্ব হারিয়ে দীন-দরিদ্রে পরিনত হলো এবং তাদের অধিকাংশই জন্মভূমিতে টিকে থাকতে পারলো না। খ্রিষ্টান-বৃটিশ শাসকরা পূর্ব পাকিস্তানে ৩৫% হিন্দু রেখে যায়, কমতে কমতে সেই সংখ্যা আজ ৮.৫%। পশ্চিম পাকিস্তানে বৃটিশরা ৩০% হিন্দু রেখে যায়, কমতে কমতে সেখানে এখন হিন্দু সংখ্যা ১.৫%।
বৃটিশ খ্রিষ্টানরা আফগানিস্তানে যায়নি, ফলে ঐ দেশ হিন্দুশূন‍্য। বৃটিশরা ভারতে যদি না আসতো, তাহলে ভারতও কি আফগানিস্তানের মতো হিন্দুশূন্য হয়ে যেত? বৃটিশরা ভারতে ৮৯% হিন্দু রেখে যায় ; ৭২ বছরে সেই স‌ংখ‍্যা কমে এখন ৭৮% – এ নেমে এসেছে।
প্রশ্ন হচ্ছে, বৃটিশ খ্রিষ্টানরা চলে যাওয়ার পরে, হিন্দু জনসংখ্যাহার কেন দ্রুত কমে যাচ্ছে? নিশ্চই খ্রিষ্টানদের কিছু বিশেষ যোগ্যতা আছে, যা হিন্দুদের নেই। সেই যোগ্যতা সমূহ কি – অবশ্যই সেগুলো চিহ্নিত করা দরকার এবং সেই সমস্ত যোগ্যতা অর্জন – কি হিন্দুদের পক্ষে সম্ভব নয় ?
অনেক বর্ণহিন্দু অভিযোগ করে, খ্রিষ্টান মিশনারিগুলো দরিদ্র-অসহায়-অবহেলিত আদিবাসী-দলিত-নিম্নবর্ণের হিন্দুদের ধর্মান্তরিত করছে। আমার কথা হচ্ছে, উচ্চবর্ণের হিন্দুরা কেন নিম্নবর্ণের হিন্দুদের অত‍্যাচার-অপমান করছে? শক্তিবান উচ্চবর্ণের হিন্দুরা যদি তাদের সমাজের অসহায় মানুষদের নিপীড়ন না করতো, তাহলে ঐসব অত‍্যাচারিত মানুষ তো ধর্মত‍্যাগের কথা ভাবতো না।
খৃষ্টান মিশনারিগুলো অসহায় হিন্দুদের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়ে উপকার করছে, কৃতজ্ঞতাবশত অসহায় হিন্দুরা খ্রীষ্টধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। তাহলে হিন্দুদের ধর্মীয় সংগঠনগুলো, কেন দলিত-আদিবাসী অসহায় হিন্দুদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে না? হিন্দু ধর্মগুরু-পুরোহিতদের সিংহভাগ বংশীয় বর্ণবাদী ব্রাহ্মণ; অল্প কিছু বৈদ‍্য, কায়স্থ ও অন্যান্য বর্ণহিন্দু। এদের কাছ থেকে সামাজিক সাম‍্য কামনা – অবান্তর কল্পনা। এরা দলিত-আদিবাসীদের, অনেক ধর্মশালায় ঢুকতে পর্যন্ত দেয় না।
একজন মানুষ যদি নিজের জন্মগত পরিচয়ের কারণে নিজস্ব উপাসনালয়েই ঢুকতে না পারে, তাহলে সে ঐ ধর্মে থাকবে কেন! কাজেই খ্রিষ্টানদের দোষারোপ করে কি কোন লাভ আছে! হিন্দুদের মূল সমস্যা তাদের সমাজের অভ‍্যন্তরে―সেটা হচ্ছে জন্মভিত্তিক জাতিভেদ। এই আসল সমস্যা সমাধান করতে না পারলে, হিন্দু সমাজের সংকট দিনকে দিন বাড়তেই থাকবে। হিন্দুদের যা আশু করনীয় – তা হচ্ছে, জন্মগত সমমর্যাদায় জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা। বিশেষ করে উচ্চবর্ণের হিন্দুদের অন্তর দিয়ে উপলব্ধি করতে হবে – বঞ্চিত ও অপমানিতের মর্মবেদনা।
সুতরাং হিন্দু সমাজে যারা খ্রিষ্টান-বিদ্বেষ ছড়ানোর চেষ্টা করছে, তাদের উচিত হবে – নিজেদের সমস্যা সমূহ সমাধানে অধিক মনোযোগী হওয়া। এই আধুনিক যুগে কেউ একা চলতে পারবে না। হিন্দু-খ্রিষ্টান-মুসলমান-বৌদ্ধ-ইহুদি-নাস্তিক সবাইকে সঙ্গে নিয়েই একসাথে সমাজে বসবাস করতে হবে।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..