ভারতের কাশ্মীরে অমরনাথ তীর্থযাত্রীদের উপর নাশকতার ছক কষেছে পাকিস্তানের জঙ্গিগোষ্ঠীরা। গোয়েন্দাদের রিপোর্ট অনুযায়ী কাশ্মীর সরকার নির্দেশ জারি করেছে তীর্থযাত্রীদের দ্রুত ফিরে আসার জন্য। এই অবস্থার নিরিখে শনিবার ইউনাইটেড কিংডম ও জার্মানি সরকারের তরফে তাঁদের নাগরিকদের যেকোনও কাজের জন্যই কাশ্মীরকে এড়িয়ে চলার উপদেশ দেওয়া হয়েছে। কাশ্মীরের নির্দেশিকার মাত্র একদিন পর হওয়ায় এই ঘটনা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
শুক্রবার নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ‘গোয়েন্দা রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে জানা গিয়েছে অমতনাথ যাত্রীদের টার্গেট করেছে পাক জঙ্গিরা। তাই যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে বলা হচ্ছে, কাশ্মীর দ্রুত ছাড়ুন।’ শুক্রবারই পাকিস্তানে উদ্ধার হয়েছে পাকিস্তানের অস্ত্র কারখানায় তৈরি ল্যান্ডমাইন৷ এছাড়াও, ভারতীয় সেনার হাতে এসেছে আরও বেশ কিছু অত্যাধুনিক অস্ত্র৷
ব্রিটিশ ফরেন অফিসের একটি নির্দেশিকায় শনিবার বলা হয়েছে, “অনাকাঙ্খিত সন্ত্রাসের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, বোমাবাজি, গ্রেনেড হামলা, শুটিং, অপহরণ যার বাইরে নয়।” এই পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে শহরের বাইরে যেতে বারণ করা হচ্ছে অথবা লাদাখ অঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় যেতে ও কাশ্মীর থেকে জম্মু যাওয়ার জন্য বিমান ব্যবহার করতে বলা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ের কাশ্মীরে হওয়া সন্ত্রাসমূলক ঘটনাগুলিকে প্রেক্ষাপটে রেখে, ব্রিটেন উপদেশ দিয়েছে, “যেকোনও প্রয়োজনেই শ্রীনগর ও কাশ্মীরের শহর গুলিতে যাবার জন্য জম্মু শ্রীনগর হাইওয়ে যেন ব্যবহার করা না হয়। পাশাপাশি পহেলগাঁও, গুলমার্গ ও সোনমার্গের ট্যুরিষ্ট ডেস্টিনেশনগুলিতে যেতে বারণ করা হয়েছে। এছাড়া এও বলা হয়েছে “আপনি যদি বর্তমানে জম্মু ও কাশ্মীরে থাকেন, তাহলে অবশ্যই সজাগ থাকুন। স্থানীয় প্রশাসনের বার্তাকে গুরুত্ব দিন ও যা ঘটছে তা নিয়ে অবগত থাকুন।
সরকারের তরফে দ্রুত বাড়ি ফেরার নির্দেশিকায় বহু ট্যুরিষ্ট, বিদেশি, তীর্থযাত্রী, ছাত্রছাত্রী, অন্য দেশ থেকে কাজের উদ্দেশ্যে আসা মানুষরা কাশ্মীর ছাড়তে শুরু করেছে। অন্যদিকে জার্মান সরকারের বিদেশমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, “ভ্রমণের উদ্দেশ্যে যারা এখন কাশ্মীরে রয়েছেন তাঁরা কাশ্মীর ছেড়ে বেড়িয়ে আসুন।”
বিমান পরিষেবা পাবার জন্য শুরু হয়ে যায় হুড়োহুড়ি। অগাস্টের ১৫ তারিখের মধ্যে অনেক বিমান সংস্থা রিসিডিঊলিং, ক্যান্সেলেশনের টাকা ফেরতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।



