ধর্ম চর্চায় সকলের সম অধিকার রয়েছে

ধর্ম মানব জীবনের একটি প্রধান অঙ্গ। জীবনের সুষ্ঠু ও সুন্দর গতির জন্য ধর্মের সুষ্ঠু ব্যবহারের প্রয়োজন রয়েছে অপরিসীম। হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ইত্যাদির অনেক ধর্মীয় দর্শনের প্রকাশ ঘটেছে। এক একটি ধর্ম পরস্পরের সান্নিধ্যে আসছে। বিশ্বে মানুষ নিয়ে, মানুষের উদ্বর্তন নিয়ে গবেষনা হচ্ছে।

এ গবেষণা থেকে জানা গেছে “মানুষ পঞ্চ জীবন ক্ষেত্রের সুষ্ঠু ও সুষম ব্যবহারের কথা”। কথা গুলো সর্বজনীন বিশ্বের সকল মানুষের উপযোগী। ধর্মীয় বোধ বৃদ্ধির উদ্বর্তনের ধারায় মানুষের মাঝে মানবের জীবন ধর্মের অনুভূতির উন্মেষ ঘটবে যা বিশ্ব মানবের ঐক্যের সুর প্রতিষ্ঠিত করবে। ধর্মীয় উৎসব (যার যার ধর্মানুযায়ী) প্রতিটি পরিবারে বয়ে আনে অনাবিল আনন্দ, পরম শান্তি ও তৃপ্তি। সুষ্টু ধর্মচর্চার মাধ্যমে সকল ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সহমর্মিতা ও সহযোগিতার বন্ধন সুদৃঢ় হয়। সমাজিক, রাজনৈতিক, এবং জাতীয় বিষয়ে সবাই অভিন্ন ঐক্যসূত্রে গাঁথা থাকে। তাই যে কোন ধর্মই মানুষের কল্যাণের জন্য সৃষ্টি ধর্ম মানুষের অকল্যাণ করতে পারে না। তবে যারা ধর্মকে পূজিঁ করে নিজ স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করেন তাদের মূলোৎপাটনের জন্য সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

ধর্মীয় জিগিরের আড়ালে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের সম্প্রীতি বিনিষ্ট করতে সমাজে এক ধরনের লোক সোচ্ছার আছে। তারা তাদের সংকীর্ণ মনোভাবকে ধর্মের দোহাই দিয়ে সমাজে প্রচার করে। এ ধরনের প্রচারনা প্রকৃত ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করতে পারেনি। মানুষ যাতে জীবনের ধর্ম জেনে তার সুষম ব্যবহার করতে পারে, তারই সুযোগ দেয়া হলো যথার্থ ধর্মীয় শিক্ষা। শিক্ষার উদ্দেশ্য সম্পর্কে হাবার্ট স্পেনসর উল্লেখ করেন ক) পূর্ণাঙ্গ বা সার্থক জীবন যাপনের প্রস্তুতি খ) সামাজিক ও ব্যক্তি জীবনের উন্নতির জন্য উপযুক্ত জ্ঞান অর্জন গ) অর্জিত জ্ঞানকে কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগের ক্ষমতা লাভ যথার্থ শিক্ষার জন্য অপরিহার্য।

জীবন ধর্মের শিক্ষা হলো জীব জগৎ ও ইশ্বরবোধ। এ ধরনের শিক্ষায় আছে পবিত্র গ্রন্থ ও এদের ব্যাখ্যা, ইশ্বরের ভাষ্য, এবং জীবন ক্ষেত্রের সুষ্টু ব্যবহারের কর্ম পদ্বতি। মানব জীবনের শব্দ, স্পর্শ, রূপ রস ও গন্ধের বিষয়বস্তুু সমূহের ব্যবহারিক শিক্ষা এর মধ্যে রয়েছে। মানুষের যিনি স্রষ্টা মানুষের ধর্মেরও তিনি স্রষ্টা। পৃথিবীতে মানুষ যতদিন থাকবে ধর্ম ও ততোদিনই থাকবে। যা সত্য ও চির কল্যাণকর এবং সৎ গুন প্রকাশক অভিব্যক্তিই হলো ধর্ম। সনাতন ধর্ম মতে বেদ, উপনিষদ, দর্শন, গীতা, ভাগবত ইত্যাদি পবিত্র গ্রন্থ সমূহ কোন একক বা বিশেষ পুরুষ দ্বারা প্রচারিত বা প্রকাশিত নয়। প্রজ্ঞাবান ঋৃষিগণের সংবেদনের সংকলন হলো, বেদ, উপনিষদ ও গীতা। ঋৃষি সংবেদন সামান্য নয়। ধ্যানগম্য ভাবময় অতিন্দ্রীয় রাজ্যের ভাষাকে ঋষি সংবেদন বলা হয়। তারই অপর নাম ভগবানের বাণী। এই বাণীর আজ্ঞা বাহক প্রচারক ও বাহকদের বলা হয় অবতার পুরুষ। তাঁরাই মানুষের ধর্মের বাণী বাহক।

যারা যুগে যুগে মানুষের কল্যানের স্বার্থে অবদান রেখে গেছেন বিশ্বের স্থানে স্থানে ও কালে কালে আবির্ভূত মনীষী, দার্শনিক, মহাপুরুষ, অবতার পুরুষ, প্রফেট, পয়গম্বরগণ মনুষ্য ধর্মের তথ্য উপাত্ত গুলি ধাপে ধাপে উৎঘাটিত করছেন। মানুষের ধর্ম মানুষের জানা থাকা দরকার। মানুষ নিজেকে জানা, তার উপাদানকে জানা, উক্ত উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত পাঁচটি জীবন ক্ষেত্রকে জানা প্রয়োজন। ধর্ম মানুষকে ভালবাসতে শেখায়। ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানব গোষ্ঠীর কল্যাণে বিশ্বব্যাপী মানব ধর্মের প্রচার যুগ যুগ ধরে আসছে।

জাতি গঠনে সকল ধর্মাবলম্বীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় বিশ্বের প্রতিটি মানুষের ঘরে ঘরে আরো সুখ, স্বাচ্ছন্দ্য ও কল্যাণ বয়ে আনে। একজন সুমহান ধর্মাবলম্বী মানুষ অন্য ধর্মকে (ভিন্নধর্মী) কখনও ঘৃনা করতে পারে না। নিজ নিজ ধর্ম পালনে বাধা দেয়া যেমনি অপরাধ তেমনি যে কোন ধর্মের সমালোচনা করাও অপরাধ। ধর্ম সম্পর্কে যুগপুরষোত্তম শ্রী শ্রী ঠাকুর অনকুল চন্দ্র বলেছেন, “বাচাঁ বাড়ার মর্ম যা,ধর্ম বলে জানিস তা”। তাই পৃথিবীতে সকল মানুষের বাচাঁ এবং বাড়ার কথাই একানে সবচেয়ে গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি আবার বলেছেন, “ধর্ম যদি নাইরে ফুঠল জীবন মাঝে নিত্য কর্মে,বাতিল করে রাখলে তারে,কি হবে তোর তেমন ধর্মে”।

তাই ধর্ম চর্চায় সকলের সমঅধিকার রয়েছে। তাই সর্বস্তরের সকলের সহযেগীতায় প্রত্যেক ধর্মের মধ্যে সমঅধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক। এই হোক সকল মানুষের চাওয়া।

উত্তম কুমার পাল হিমেল, প্রভাষক, সাংবাদিক ও লেখক

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।