জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঐতিহাসিক প্রথম ভাষণে জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টি বিশেষভাবে প্রাধান্য পাবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। একই সঙ্গে আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলন ‘কপ-৩১’-এ পরিবেশবান্ধব পাট ও পাটজাত পণ্যের কার্যকর ব্যবহারের উপকারিতা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা হবে বলে জানান তিনি।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘৮১তম জাতিসংঘ সম্মেলনে জলবায়ু কূটনীতির মাধ্যমে বাংলাদেশের ন্যায্যতা অর্জন’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, “বিগত সরকারের জলবায়ু ইস্যুতে সুনির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ছিল না। কিন্তু বর্তমান বিএনপি সরকারের দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকার রয়েছে। সে উদ্দেশ্যেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জলবায়ু কূটনীতির ওপর একটি সম্পূর্ণ আলাদা ও বিশেষায়িত উইং খোলা হয়েছে, যা পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে সার্বক্ষণিক কাজ করছে।”
তিনি আরও জানান, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বর্তমান সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। অন্যদিকে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক যাবেন এবং ২৪ সেপ্টেম্বর সেখানে ভাষণ দেবেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বিশ্ব সম্প্রদায় ও দেশের জনগণের প্রতি সরকারের নীতি এবং জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্ত দেশের হিসেবে আমাদের ন্যায্য দাবির প্রতিফলন ঘটবে।”
আগামী নভেম্বরে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩১-এ বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় নারী ও শিশুরা, যারা দেশের জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি। কপে তাদের সার্বিক সুরক্ষা ও আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়নের দাবি জোরদার করা হবে।
একই সঙ্গে জলবায়ু সংকটের টেকসই সমাধান হিসেবে প্লাস্টিকের বিকল্প পলিথিনমুক্ত বিশ্ব গঠনে বাংলাদেশি পাটজাত পণ্যের অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত দিক তুলে ধরা হবে।”
বিগত শাসনব্যবস্থার সঙ্গে বর্তমান সরকারের ফারাক উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশব্যাপী খাল খনন ও ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চালুর মাধ্যমে ইতোমধ্যেই পরিবেশ রক্ষায় বাস্তবমুখী পদক্ষে প গ্রহণ করেছেন, যা বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।”





