পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে রাজধানী ইসলামাবাদের দিকে লং মার্চ শুরু করেছেন তার সমর্থকরা।
দেশটির ক্ষমতাসীন সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক উত্তেজনা চলার মধ্যেই সোমবার (৫ অক্টোবর) পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এ কর্মসূচির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
রোববার খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশ থেকে লং মার্চের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে প্রদেশটিতে পিটিআই নেতৃত্বাধীন সরকার রয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিভিন্ন এলাকা অতিক্রম করে একাধিক স্থানে বিরতি নিয়ে মিছিলটি ইসলামাবাদের উদ্দেশে এগিয়ে যাবে।
সমর্থকদের রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়েছেন খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি। তিনি তরুণদের উদ্দেশে বলেন, কারাবন্দি নেতার মুক্তির দাবিতে তাদের রাজপথে আন্দোলনে অংশ নিতে হবে।
২০২২ সালে পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটে পিটিআই সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে দলটির সঙ্গে বর্তমান সরকারের বিরোধ ক্রমেই তীব্র হয়েছে। ইমরান খান তার সরকার পতনের পেছনে সেনাবাহিনীর ভূমিকার অভিযোগ করে আসছেন। তবে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
পরের বছর, ২০২৩ সালের মে মাসে ইমরান খান গ্রেপ্তার হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তার সমর্থকদের একাংশ সামরিক স্থাপনায় হামলা চালালে বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। পরে দেশজুড়ে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয়। পিটিআইয়ের হাজারো নেতাকর্মী আটক হন এবং তাদের কয়েকজনকে সামরিক আদালতেও সাজা দেওয়া হয়।
৭৪ বছর বয়সী সাবেক ক্রিকেটার ইমরান খান নিজেকে রাজনৈতিক বন্দি হিসেবে দাবি করে আসছেন। বিভিন্ন মামলায় বিচারিক আদালতে তার সাজা হলেও আপিল চলাকালে একটি মামলা ছাড়া অন্য মামলাগুলোর সাজা স্থগিত বা বাতিল হয়েছে।
পিটিআই প্রথমে ২৭ সেপ্টেম্বর লং মার্চের দিন নির্ধারণ করেছিল। পরে সরকার আলোচনার প্রস্তাব দিলে কর্মসূচি পিছিয়ে দেওয়া হয়। তবে গত সপ্তাহের শেষ দিকে দুই পক্ষের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় আবারও লং মার্চ শুরু করেছে দলটি।
এর আগে প্রায় দুই বছর আগে পিটিআইয়ের বড় ধরনের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমর্থকদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছিল। এবারও সম্ভাব্য সহিংসতা ঠেকাতে ইসলামাবাদ ও এর আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। জাতীয় সংসদ, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ও দূতাবাসসংলগ্ন এলাকায় কনটেইনার বসিয়ে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, কোনোভাবেই বিক্ষোভকারীদের ইসলামাবাদে ঢুকতে দেওয়া হবে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি বলেছেন, সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান করা হবে এবং কোনো রাজনৈতিক দলকে রাজধানীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাহত করার সুযোগ দেওয়া হবে না।
আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার বিষয়ে সরকারের দাবি, আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখোয়ায় জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় যৌথ নীতির ক্ষেত্রে পিটিআই সহযোগিতা করতে রাজি হয়নি। তবে এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে পিটিআই। দলটির দাবি, সরকার তাদের ওপর অন্যায্য শর্ত চাপিয়ে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে চেয়েছিল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী সতর্ক করে বলেছেন, প্রাদেশিক সরকার রাষ্ট্রের সন্ত্রাসবিরোধী নীতি অনুসরণ না করলে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় সেই সরকার ভেঙে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স





