বিশ্বের অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণ ও আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থাপনায় মানবাধিকারকে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আইরিন জুবাইদা খান। তাঁর মতে, অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাফল্য শুধু প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যান দিয়ে বিচার করা যায় না; মানুষের জীবনমান, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও এর ইতিবাচক প্রভাব থাকতে হবে।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ‘দ্য পলিটিক্যাল ইকোনমি অব হিউম্যান রাইটস’ শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের সংলাপে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রদূত আইরিন খান অর্থনৈতিক নীতিতে ন্যায়সংগত করব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, উন্নয়ন অর্থায়নের ব্যয় কমানো, ঋণের টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁর বক্তব্যে অর্থনৈতিক অগ্রগতির সুফল সমাজের সব শ্রেণির মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা উঠে আসে।
অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক বলেন, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতা ক্রমেই সীমিতসংখ্যক ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। অন্যদিকে সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি, ঋণের চাপ এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য মানবাধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা উল্লেখ করেন, বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত, ঋণ পরিশোধের বাড়তি ব্যয় এবং উন্নয়ন সহায়তা কমে যাওয়ায় শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে এসব সংকট টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করার পথেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।
বক্তারা এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক করব্যবস্থায় ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা, ঋণ পুনর্গঠনে কার্যকর ও ন্যায়সংগত ব্যবস্থা গ্রহণ, আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানো এবং নীতিনির্ধারণে নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। তাঁদের মতে, কাঠামোগত বৈষম্য কমানো এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষায় এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বাংলাদেশ, মরক্কো, দক্ষিণ আফ্রিকা ও উরুগুয়ের জাতিসংঘ স্থায়ী মিশনের যৌথ উদ্যোগে এ সংলাপের আয়োজন করা হয়। এতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর রাষ্ট্রদূত, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি এবং মানবাধিকার ও উন্নয়নবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
আলোচনায় আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক শাসনব্যবস্থার সংস্কার এবং ২০৩০-পরবর্তী বৈশ্বিক উন্নয়ন কাঠামোতে মানবাধিকারের বিষয়টি আরও কার্যকরভাবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
বক্তাদের অভিমত, অর্থনৈতিক নীতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনার কেন্দ্রে মানুষের অধিকার, মর্যাদা এবং ন্যায়সংগত সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে বৈশ্বিক উন্নয়ন আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই হয়ে উঠতে পারে।





