ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোট এগিয়ে থাকলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। অন্যদিকে, বিরোধী জোটও এককভাবে সরকার গঠনের মতো আসন পায়নি। ফলে দেশটির পরবর্তী সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) প্রকাশিত সর্বশেষ আংশিক ফলাফল অনুযায়ী, প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট গণনা শেষে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ১২০ আসনের পার্লামেন্টে ৫৩টি আসন পাওয়ার অবস্থানে রয়েছে। সাবেক সামরিক কর্মকর্তা গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের সম্ভাব্য আসন ৪৮টি। আর আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন পেতে পারে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন।
লিকুদ বৃহত্তম দল, এগিয়ে আইজেনকটের ইয়াশার
আংশিক ফলাফলে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ২৬টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকটের ইয়াশার পার্টি ২১টি আসন নিয়ে বিরোধী শিবিরের প্রধান শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে।
নাফতালি বেনেট ও ইয়াইর লাপিদের নেতৃত্বাধীন বি’ইয়াখাদ জোট ১২টি আসন পেতে পারে। একই সংখ্যক আসন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে আরব নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্টের। এ ছাড়া দ্য ডেমোক্র্যাটস, ইসরায়েল বেইতেনু, রা’আমসহ অন্যান্য দলও পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্ব পেতে যাচ্ছে।
তবে ভোট গণনা এখনো সম্পূর্ণ না হওয়ায় দলগুলোর আসনসংখ্যায় পরিবর্তন আসতে পারে।
সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে আরব দলগুলো
নির্বাচনের আংশিক ফলাফলে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সম্মিলিত ১৯টি আসন সরকার গঠনের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে এসব দলের সমর্থন নিয়ে বিরোধী জোটের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক মতপার্থক্য রয়েছে।
আইজেনকটের বিরোধী জোটের সামনে চ্যালেঞ্জ হলো, আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়া সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা কঠিন। অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর জোটও ৬১ আসনের লক্ষ্যমাত্রা থেকে আট আসন পিছিয়ে রয়েছে।
ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ রাজনৈতিক দলগুলোকে নতুন সরকার গঠনের আলোচনায় নমনীয় অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আরেকটি নির্বাচন এড়িয়ে সমঝোতার মাধ্যমে সরকার গঠনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
আবারও নির্বাচন, নাকি সমঝোতার সরকার?
ইসরায়েলের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় জোট সরকার গঠন একটি প্রচলিত প্রক্রিয়া। কোনো দল এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় নির্বাচনের পর দলগুলোর মধ্যে আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে সরকার গঠনের সুযোগ রয়েছে।
নেতানিয়াহুর জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হলে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা, নতুন রাজনৈতিক জোট গঠন কিংবা শেষ পর্যন্ত আরেকটি নির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে কোন পথে পরিস্থিতি এগোবে, তা নির্ভর করবে চূড়ান্ত ফলাফল ও পরবর্তী রাজনৈতিক আলোচনার ওপর।
এদিকে, সেনাসদস্য, কূটনীতিক এবং বিশেষ ব্যবস্থায় ভোট দেওয়া অন্যান্য ভোটারের ব্যালট গণনা বাকি থাকায় চূড়ান্ত আসনবণ্টনে পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।
সার্বিকভাবে, ইসরায়েলের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জোট এগিয়ে থাকলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা এখনো নিশ্চিত হয়নি। ফলে পরবর্তী সরকার গঠনে রাজনৈতিক সমঝোতাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।





