বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬
সর্বশেষ
ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি, ঠিকাদারের হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ● 📢কৃষি সচিব হিসেবে মোঃ সেলিম খানের যোগদান● 📢সমুদ্রবন্দরসমূহকে ৩নং সতর্ক সংকেত দেখানোর নির্দেশ● 📢পঞ্চগড়ের বোদায় মাইক্রো বাসের ধাক্কায় এক নারী মৃত্যু ● 📢তিন শহরে নারীদের জন্য বাস সার্ভিসে ই-টিকিটিং সেবা দেবে সহজ● 📢মধুখালী বাজার পরিদর্শনে নবনিযুক্ত ইউএনও, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ● 📢নাগরিকের ঘরে গিয়ে সমস্যা শুনলেন, সমাধানে তাৎক্ষণিক উদ্যোগ ববি হাজ্জাজের● 📢ভারতে আটক তিন বাংলাদেশি নারী পৃথক প্রত্যাবর্তনে দেশে ফিরেছেন● 📢শপিংমল-দোকানপাটের সময়সূচিতে পরিবর্তন, কার্যকর নতুন নির্দেশনা● 📢জরুরি গ্যাস আমদানিসহ ৪ প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন● 📢

দলিত সাফাইকর্মীর পা ধুয়ে দিলেন নরেন্দ্র মোদী

ভারতের মুকুটহীন চক্রবর্তী রাজাধীরাজ শ্রী নরেন্দ্র দামোদর মোদী গতকাল কুম্ভমেলায় দলিত শুদ্র সাফাই কর্মীদের পদসেবারত। মানবপ্রেমী এমন মহামহীম দেশ প্রধান কেঊ কোথাও দেখেনি যিনি সমাজে ছুয়াছুত কুসংস্কারের কবর দিলেন ও মনুষ্যত্বকে সর্বোচ্চে স্থান দিলেন। তিনি প্রমান করে দিলেন স্বামীজির বাণী, “ জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ইশ্বর”।

কিছু ক্ষণ আগেই কুম্ভের সঙ্গমে ডুব দিয়ে এসেছেন। মাথায় সাদা চন্দন লেপা। পরনে গেরুয়া কুর্তা। একটা নিচু টুলে বসেছেন নরেন্দ্র মোদী। সামনে চেয়ারে বসে পেয়ারে লাল, ছবি, হোরি লাল, নরেশ কুমার, জ্যোতি। পাঁচ জনেই সাফাই কর্মচারী। কুম্ভে ঝাড়ু হাতে, আবর্জনা সাফাইয়ে ব্যস্ত ছিলেন এ ক’দিন। এ তাঁদের নিত্যদিনের কাজ।

আজ থেকে তাঁদের দিনটাই বদলে গেল! এ দিন কুম্ভে স্নান সেরে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী তাঁদের পা ধুইয়ে দিলেন যে! প্রথমে ঝকঝকে নতুন পাত্রে রাখা জল ঢেলে পা ধুইয়ে দিলেন। তার পর নতুন তোয়ালে দিয়ে সকলের পা মুছিয়ে দিলেন অতি যত্নে। তার পরে গলায় পরিয়ে দিলেন অঙ্গবস্ত্র।

পুরোটাই টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার হল। ‘ফ্ল্যাশব্যাক’-এ অনেকের স্মৃতিতে ফিরে এল, এক সময় মহাত্মা গাঁধীও এ ভাবেই সাফাই কর্মচারীদের সম্মান জানাতেন। গাঁধীর নামে ভর দিয়েই মোদী ক্ষমতায় এসে শুরু করেছিলেন স্বচ্ছতা অভিযান। নিজে হাতে ঝাড়ু দিয়েছিলেন রাজপথে। আজ সাফাইকর্মীদের পা ধুইয়ে তিনি একটি বৃত্ত সম্পূর্ণ করলেন। অনেকে বলছেন, কখনও গাঁধী, কখনও পটেল, কখনও নেতাজি— নানা রূপে মোদী নিজেকে মনীষী প্রতিপন্ন করারই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ দিনের পরে মোদীর ভক্তেরা যে তাঁকে মহাত্মা গাঁধীর পরের আসনেই বসাবেন, তাতে সংশয় ছিল না। হয়েছেও তাই। খোদ বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের দাবি, ‘‘এ দেশে গাঁধীজির পরে প্রথম বার কোনও জননেতার মধ্যে এই ধরনের সমর্পণের ভাব দেখলাম। এক নতুন যুগের শুরু।’’

মোদী নিজে বলেন, ‘‘আজ জীবনে এমন এক মুহূর্ত এসেছে, যা জীবনভর আমার সঙ্গে থাকবে।’’ কিন্তু তাঁর সমালোচকেরা বলেছেন, লোকসভা ভোটকে পাখির চোখ করে প্রয়াগরাজে গিয়ে একই সঙ্গে উচ্চবর্ণের হিন্দু এবং দলিত— দু’পক্ষেরই মন জয়ের চেষ্টা করলেন মোদী। এক দিকে তিনি ত্রিবেণী সঙ্গমে ডুব দিয়েছেন। কমলা জ্যাকেটের উপর গেরুয়া চাদর জড়িয়ে মন্ত্রোচ্চারণ করে পুজো করেছেন। ত্রিবেণী সঙ্গমে ‘দুগ্ধাভিষেক’ করেছেন। নিজেকে ধর্মপ্রাণ হিন্দু হিসেবে তুলে ধরেছেন। তার পরেই সাফাই কর্মচারীদের পা ধুইয়ে দলিত মন জয়ের চেষ্টা করেছেন।

মোদী যাঁদের পা ধুইয়ে দিয়েছেন, সেই নরেশ কুমারদের বক্তব্য, এমন যে কিছু হবে, তা তাঁরা জানতেনই না। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী তাঁদের পা ধুইয়ে দেওয়ায় তাঁরা স্তম্ভিত। নরেশ কুমারদের জানা না থাকলেও বাস্তবে দেখা গিয়েছে, সমস্ত ব্যবস্থা আগে থেকেই তৈরি ছিল। পায়ের পাশে ঝকঝকে ধাতুর পাত্র, জল, তোয়ালে— সব।

সাফাই কর্মচারী জ্যোতি বলেন, ‘‘এত সম্মান মিলবে, কোনও দিন ভাবিনি। কত দিন কুম্ভে কাজ করছি, তা-ও জানতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।’’ আর মুগ্ধ পেয়ারে লাল বলেন, ‘‘উনি ফের প্রধানমন্ত্রী হোন।’’

গোটাটাই ভোটের দিকে তাকিয়ে সাজানো নাটক বলে বিরোধীরা সরব হলেও অমিত শাহের দাবি, ‘‘সাফাই কর্মচারীদের পা ধোয়া শুধু প্রধানমন্ত্রীর সংবেদনশীল মনের প্রমাণ নয়। তার সঙ্গে সামাজিক ঐক্যের প্রতি ওঁর সমর্পণেরও প্রতিবিম্ব।’’ যদিও বিরোধীদের বক্তব্য, এই ঐক্য ভাবনা মোদীর কাজে প্রতিফলিত হয় না।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।