আকাশে মেঘ হলেই অটোরিকশার ভাড়া দ্বিগুণ!

‘মেঘ ওয়ার (বৃষ্টি) পর থাকি রাস্তার অবস্থা বাদ (খারাপ)। রাস্তাত আঁটু (হাঁটু) সমান পানি। খালে দিয়া গাড়ি লইয়া যাইতে অয়। এর লাগি গাড়ির ভাড়া ডাবল (দ্বিগুণ) দিতে অইবো।

সিলেট-ভোলাগঞ্জ সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। বৃষ্টি হলে কাদা-পানিতে একেবারে একাকার হয়ে যায়। একারণে আকাশে মেঘ দেখলেই সিএনজি চালিত অটোরিকশার চালকরা ভাড়া বাড়িয়ে দেন। এভাবেই চলছে দিনের পর দিন।

বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ) পাথরের রাজ্যখ্যাত কোম্পানিগঞ্জ ও গোয়াইনঘাট উপজেলার ১৩ ইউনিয়ন পরিষদের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নিউজ কাভারেজ করতে বাংলানিউজ প্রতিনিধির গন্তব্য পাথর রাজ্যের রাজধানী ভোলাগঞ্জে।

নির্বাচনী এলাকা হওয়ায় এই সড়কে বুধবার (৩০ মার্চ) দুপুর থেকেই গাড়ির সংখ্যা ছিলো অনেকটাই কম। তাছাড়া অটোরিকশা ছাড়া আর কোনো যাত্রীবাহী বাহন না থাকায় এতে যাত্রীদের চাপ লেগেই থাকে।

নগরীর আম্বরখানা বিমানবন্দর রোড থেকে ভোলাগঞ্জের অটোরিকশা ছাড়ে। তাই সেখানে এসে গাড়ির জন্য অপেক্ষা। আধা ঘণ্টা অপেক্ষার পর অটোরিকশা মিললো। কিন্তু চালক ভাড়া হাঁকছেন। দরদাম শেষে জনপ্রতি ৩০০ টাকা ভাড়ায় গাড়িতে উঠলাম। গাড়ি ছুটতে থাকলো গন্তব্যের উদ্দেশ্যে।

শুরুতেই চালকের সকর্তবার্তা শুনে অনেকটাই কৌতূহলী হয়ে পড়লাম। বার্তাটি এমন ছিলো- ‘ভাই পেন্ট বলিয়া হাঁটুত তুলিলাইন। না অইলে পেকে (কাদা) আর পানি ভরি যাইবো।’ তার কথা প্রথমে পাত্তা না দিলেও টের পেলাম যখন ধুপাগুল এলাকায় পৌঁছালাম।

রাস্তার বড় বড় গর্তগুলো কাদা পানিতে একাকার। অনেক স্থানে গর্ত এমন বড় যে গাড়ি অর্ধেক পানির নিচে চলে যায়! আবার কিছু কিছু জায়গায় গাড়িকে ঠেলে তুলতে হয়েছে গর্ত থেকে।

রাস্তার এমন দশা দেখে সিলেটের স্থানীয় অনলাইনের প্রতিনিধি সহকর্মী মুন্নার প্রশ্ন; একদিনেই আমাদের অবস্থা বেহাল, প্রতিনিয়ত এই অঞ্চলের মানুষ চলে কিভাবে?

তার কথার উত্তর দিলেন গাড়িতে বসা যাত্রী এনামুল। পেশায় স্কুল শিক্ষক উল্লেখ করে তিনি বললেন, ‘চলতে চলতে অভ্যাস হয়ে গেছে ভাই, আমাদের এমন দুর্ভোগ দেখার কেউ নাই।’

‘আমাদের সড়কের সংস্কার কাজের ভিত্তিপ্রস্তর করেছিলের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কয়েক মাস চলে গেলো অথচ কাজের কোনো চিহ্ন দেখা যাচ্ছে না। নাকি ভিত্তি প্রস্তরেই সড়কের সংস্কার সীমাবদ্ধ থাকবে- এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।

আরেক যাত্রী এনজিও কর্মী আমিনুল বললেন, ‘৬-৭ বছর ধরে এই সড়কে ভালো বাস চলাচল করে না। আর যে কয়টি চলাচল করে সেগুলো জরাজীর্ণ অবস্থা। তাছাড়া রাস্তার দূরাবস্থার কারণে ছোট গাড়িতে চলাচল আরামদায়ক। তাই বাধ্য হয়েই আমরা সিএনজিতে চলি।’

সিলেট থেকে ভোলাগঞ্জের দূরত্ব ৩৬ কিলোমিটার। এই পথ অতিক্রম করতে সময় লাগে তিন ঘণ্টা। এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার মালবাহী ট্রাক চলাচল করে।  দেশের অবকাঠামোর প্রায় ৭০ ভাগ পাথর এ অঞ্চল থেকে সরবরাহ করা হয়।

সড়ককে জেলা সড়ক থেকে জাতীয় মহাসড়কে উন্নীত করার লক্ষে ‘বিমানবন্দর বাইপাস ইন্টারসেকশন-লালবাগ-সালুটিকর-কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ’ জাতীয় মহাসড়ক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।

এ লক্ষে ৪৪১ কোটি ৫৪ লাখ টাকার প্রকল্প গত বছরের ৭ এপ্রিল অনুমোদন দেয় একনেক। একই বছরের ৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।