ভবিষ্যতে বড় ধরনের পানি সংকট এড়াতে এখন থেকেই সঠিক পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।
তিনি বলেছেন, দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রতিটি পর্যায়ে পানির গুরুত্ব এবং এর যথাযথ ব্যবস্থাপনার বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে পানি অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর কার্যালয়ে ইউনিসেফের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে নিরাপদ ও সুপেয় পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং উপকূলীয় অঞ্চলে বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে জানানো হয়, ইউনিসেফের সহযোগিতায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, ওয়াসা এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রায় ১ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রকল্প বর্তমানে চলমান রয়েছে।
নিরাপদ পানির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, পানি মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। একইভাবে বিশ্বব্যাপীও পানি মানবজাতির জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংকটের কারণ হতে পারে। তাই সংকট তৈরি হওয়ার আগেই কার্যকর পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে।
পানি ব্যবস্থাপনায় বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রায় ছয় দশক আগে সুইডেনের মতো দেশগুলো প্রাকৃতিক সম্পদের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের নেতিবাচক প্রভাব উপলব্ধি করেছিল। বাংলাদেশও বর্তমানে একই ধরনের বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাই অন্য দেশগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও শিল্পায়নের সঙ্গে পানির সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে তৈরি পোশাক ও বস্ত্রশিল্পে বিপুল পরিমাণ পানি ব্যবহৃত হয়। পাশাপাশি শিল্পকারখানার বর্জ্যে দেশের বিভিন্ন নদী ও খালের পানি দূষিত হচ্ছে। উপকূলীয় এলাকাতেও পানিকে ঘিরে নানা ধরনের সংকট রয়েছে।
উন্নয়ন অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন করতে হবে, তবে তা যেন মানুষের জীবন ও পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে, সেদিকে নজর রাখতে হবে। মানুষের জন্য শুধু উন্নত আবাসন নয়, নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশও নিশ্চিত করা জরুরি।
বৈঠকে ইউনিসেফ বাংলাদেশের রিপ্রেজেন্টেটিভ অ্যাড ইন্টেরিম গিলিয়ান মেলসপ, ডেপুটি কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ (প্রোগ্রাম) এমানুয়েল আব্রিউসহ ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। এ সময় ইউনিসেফ, বিশ্বব্যাংক ও ওয়াটারএইডের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া পরিকল্পনা, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগের মহাপরিচালক শিবির বিচিত্র বড়ুয়াসহ মন্ত্রণালয় এবং এর অধীন বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।





