বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পানি বণ্টনসংক্রান্ত বিরোধগুলো আলোচনা, সংলাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে সমাধান করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইনের সংশ্লিষ্ট নীতিমালাকেও গুরুত্ব দিতে হবে বলে জানান তিনি।
রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে আয়োজিত ‘পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে পুনর্বিবেচনা: যুব নেতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও সহযোগিতা’ শীর্ষক সেমিনারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
আন্তঃসীমান্ত নদী এবং গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে পানি ব্যবস্থাপনায় আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে আলোচনা ও সংলাপ অব্যাহত রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা চলবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, উভয় দেশের নেতৃত্ব, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং পানি আলোচনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের মধ্যে আন্তরিকতা ও সহযোগিতার মানসিকতা থাকলে পানি ইস্যুতে বন্ধুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব।
তিনি জানান, পানি-সংক্রান্ত বিষয়গুলো পর্যালোচনার জন্য বাংলাদেশ একটি কমিটি গঠন করেছে। ভারতও তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পর্যালোচনা করছে।
হুমায়ুন কবির বলেন, দুই দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব সহযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার সদিচ্ছা দেখালে এ ক্ষেত্রে বাস্তব অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব। নেতৃত্বের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার মানসিকতা থাকলে একটি ইতিবাচক সমাধানের পথ তৈরি হবে।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন আন্তঃসীমান্ত নদী রয়েছে। ফলে পানি ব্যবস্থাপনা এবং ন্যায্য বণ্টন দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। অভিন্ন নদীগুলো নিয়ে আলোচনার প্রধান দ্বিপক্ষীয় কাঠামো হিসেবে যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) কাজ করছে।
১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় ঘনিয়ে আসায় এর ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করা এবং দেশের স্বার্থ সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে আসছে বাংলাদেশ।
বিআইআইএসএস আয়োজিত সেমিনারে বহুপক্ষীয় প্ল্যাটফর্মে পানি কূটনীতির বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা এবং সমমনা দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য সুযোগগুলো চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ ছাড়া আন্তঃসীমান্ত পানি ব্যবস্থাপনায় অংশগ্রহণমূলক শাসনব্যবস্থা, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব, পানি-সংক্রান্ত ন্যায়বিচার এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তরুণদের আরও বেশি সম্পৃক্ততার বিষয়েও আলোচনা হয়।





