পবিত্র কাবা আগুনে ক্ষতিগ্রস্তের দিন আজ

পবিত্র কাবা আগুনে ক্ষতিগ্রস্তের দিন আজ
পবিত্র কাবা আগুনে ক্ষতিগ্রস্তের দিন

আজ ৩১ অক্টোবর। ৬৮৩ খ্রিষ্টাব্দের এই দিনে উমাইয়া শাসক ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়ার বাহিনীর মক্কা অবরোধ চলাকালে অগ্নিকাণ্ডে পবিত্র কাবা শরিফের কাঠের ছাদ ও গিলাফের অংশ পুড়ে যায়। ঘটনাটি ইসলামের প্রাথমিক রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত অধ্যায়। কাবা আগুনে ক্ষতিগ্রস্তের দিন

ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, খলিফা ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়ার প্রতি আনুগত্য স্বীকারে অস্বীকৃতি জানিয়ে মক্কায় অবস্থান করছিলেন আবদুল্লাহ ইবনে জুবাইর। তাঁকে দমন করতে ইয়াজিদ একটি সেনাবাহিনী পাঠান। সেনাপতি হুসাইন ইবনে নুমাইর মক্কা অবরোধ করেন। এ সময় নগরীতে সংঘর্ষ ও অবরোধের মধ্যে কাবা শরিফে আগুন লাগে।

আগুন লাগার কারণ নিয়ে ঐতিহাসিক সূত্রগুলোতে ভিন্ন ভিন্ন বিবরণ পাওয়া যায়। কোনো বর্ণনায় অবরোধকারীদের নিক্ষিপ্ত অগ্নিগোলক বা আগুনের কথা বলা হয়েছে। আবার অন্য বর্ণনায় কাবার আশপাশে জ্বালানো আগুন থেকে বাতাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া স্ফুলিঙ্গকে অগ্নিকাণ্ডের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ঠিক কোন পক্ষের কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল, তা নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডে কাবা শরিফের কাঠের অংশ ও গিলাফ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে পুরো স্থাপনাটি সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়নি। পরবর্তী সময়ে আবদুল্লাহ ইবনে জুবাইর কাবা শরিফ পুনর্নির্মাণ করেন। তিনি প্রচলিত বর্ণনা অনুসারে হজরত ইবরাহিমের ভিত্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাঠামোয় কিছু পরিবর্তনও আনেন।

ইয়াজিদের মৃত্যুসংবাদ মক্কায় পৌঁছানোর পর অবরোধকারী বাহিনী অবরোধ তুলে নেয়। কিন্তু কাবা শরিফের অগ্নিকাণ্ডের স্মৃতি ইসলামের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বেদনাদায়ক ঘটনা হিসেবে থেকে যায়।

উল্লেখ্য, ৬৮৩ সালের এই অগ্নিকাণ্ড এবং ৬৯২ সালে আল-হাজ্জাজের নেতৃত্বে সংঘটিত দ্বিতীয় মক্কা অবরোধ দুটি পৃথক ঘটনা। দ্বিতীয় অবরোধে কাবা ও মসজিদুল হারাম অবরোধের অস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
সংবাদ প্রতিনিধি

নিজস্ব প্রতিবেদক

এই সংবাদটি The News-এর সংবাদ প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।