২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অরের ভোটের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশিত হয়েছে। এবারের পুরস্কারের লড়াইয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। ফ্রান্সের তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পেকে মাত্র ২৮ পয়েন্টের ব্যবধানে পেছনে ফেলে ফুটবলের মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার জিতেছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক ও বায়ার্ন মিউনিখের স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন।
গত ২৬ অক্টোবর লন্ডনে অনুষ্ঠিত জমকালো আয়োজনে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর হাতে তুলে নেন কেইন। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) প্রকাশিত ভোটের পূর্ণাঙ্গ হিসাবে দেখা যায়, ১ হাজার ৫৫ পয়েন্ট পেয়ে শীর্ষস্থান অর্জন করেছেন এই ইংলিশ ফরোয়ার্ড। অন্যদিকে ১ হাজার ২৭ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে।
বার্সেলোনার স্প্যানিশ তরুণ ফুটবলার লামিনে ইয়ামাল ৮৮১ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন। ৭২৬ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ হয়েছেন রদ্রি।
ভোটের হিসাবে এবার বড় চমক দেখিয়েছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলা এই তারকা ৬১২ পয়েন্ট পেয়ে পঞ্চম স্থান অর্জন করেছেন। অন্যদিকে ইন্টার মিলানের আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার লাউতারো মার্তিনেজ পেয়েছেন মাত্র ১১ পয়েন্ট। ১০০ জন সাংবাদিকের ভোটে তাঁর অবস্থান হয়েছে ২২তম।
ভোটের লড়াইয়ে যেভাবে এগিয়ে গেলেন কেইন
২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অরের ভোটে অংশ নেন ১০০টি দেশের নির্বাচিত সাংবাদিক প্রতিনিধি। ২০২৫ সালের ৩ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১৯ জুলাই পর্যন্ত খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স বিবেচনায় নিয়ে প্রত্যেক ভোটার তাঁদের পছন্দের সেরা ১০ জনের তালিকা জমা দেন।
প্রতিটি ভোটে প্রথম স্থান পাওয়া খেলোয়াড়কে ১৫ পয়েন্ট এবং দশম স্থান পাওয়া খেলোয়াড়কে ১ পয়েন্ট দেওয়া হয়।
ভোটের পয়েন্ট বণ্টন ছিল নিম্নরূপ:
| ভোটের অবস্থান | পয়েন্ট |
|---|---|
| প্রথম | ১৫ |
| দ্বিতীয় | ১২ |
| তৃতীয় | ১০ |
| চতুর্থ | ৮ |
| পঞ্চম | ৭ |
| ষষ্ঠ | ৫ |
| সপ্তম | ৪ |
| অষ্টম | ৩ |
| নবম | ২ |
| দশম | ১ |
প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, কেইন সর্বোচ্চ ৪০টি প্রথম স্থানের ভোট পেয়েছেন। এমবাপ্পের ঝুলিতে ছিল ২৩টি প্রথম স্থানের ভোট। এই ব্যবধানই শেষ পর্যন্ত দুজনের মধ্যে পুরস্কারের লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অরের পূর্ণাঙ্গ ভোটের ফল
| অবস্থান | খেলোয়াড় ও জাতীয়তা | ক্লাব | পয়েন্ট |
|---|---|---|---|
| ১ | হ্যারি কেইন (ইংল্যান্ড) | বায়ার্ন মিউনিখ | ১,০৫৫ |
| ২ | কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফ্রান্স) | রিয়াল মাদ্রিদ | ১,০২৭ |
| ৩ | লামিনে ইয়ামাল (স্পেন) | বার্সেলোনা | ৮৮১ |
| ৪ | রদ্রি (স্পেন) | ম্যানচেস্টার সিটি | ৭২৬ |
| ৫ | লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা) | ইন্টার মায়ামি | ৬১২ |
| ৬ | খভিচা কাভারাসখেলিয়া (জর্জিয়া) | পিএসজি | ৫৪১ |
| ৭ | উসমান দেম্বেলে (ফ্রান্স) | পিএসজি | ৪১৮ |
| ৮ | আর্লিং হালান্ড (নরওয়ে) | ম্যানচেস্টার সিটি | ৩৭৮ |
| ৯ | মাইকেল অলিসে (ফ্রান্স) | বায়ার্ন মিউনিখ | ২৯৬ |
| ১০ | ফাবিয়ান রুইজ (স্পেন) | পিএসজি | ২০১ |
| ১১ | জুড বেলিংহাম (ইংল্যান্ড) | রিয়াল মাদ্রিদ | ১০৭ |
| ১২ | পাউ কুবারসি (স্পেন) | বার্সেলোনা | ১০১ |
| ১৩ | আশরাফ হাকিমি (মরক্কো) | পিএসজি | ৬৫ |
| ১৪ | ভিতিনিয়া (পর্তুগাল) | পিএসজি | ৫৯ |
| ১৫ | ডেকলান রাইস (ইংল্যান্ড) | আর্সেনাল | ৫৭ |
| ১৬ | ফেরান তোরেস (স্পেন) | বার্সেলোনা | ৪৪ |
| ১৭ | ভিনিসিয়ুস জুনিয়র (ব্রাজিল) | রিয়াল মাদ্রিদ | ২৬ |
| ১৮ | মার্ক কুকুরেয়া (স্পেন) | চেলসি | ১৬ |
| ১৯ | জোয়াও নেভেস (পর্তুগাল) | পিএসজি | ১৫ |
| ২০ | উইলিয়ান পাচো (ইকুয়েডর) | পিএসজি | ১২ |
| ২১ | গ্যাব্রিয়েল (ব্রাজিল) | আর্সেনাল | ১১ |
| ২২ | লাউতারো মার্তিনেজ (আর্জেন্টিনা) | ইন্টার মিলান | ১১ |
| ২৩ | নুনো মেন্দেস (পর্তুগাল) | পিএসজি | ৮ |
| ২৪ | লুইস দিয়াজ (কলম্বিয়া) | বায়ার্ন মিউনিখ | ৮ |
| ২৫ | মার্কিনিওস (ব্রাজিল) | পিএসজি | ৭ |
| ২৬ | দায়ো উপামেকানো (ফ্রান্স) | বায়ার্ন মিউনিখ | ৫ |
| ২৭ | ব্রুনো ফার্নান্দেজ (পর্তুগাল) | ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড | ৫ |
| ২৮ | হুলিয়ান কুইনোনেস (মেক্সিকো) | আল-কাদসিয়া | ৪ |
| ২৯ | সাদিও মানে (সেনেগাল) | আল-নাসর | ২ |
| ২৯ | উইলিয়াম সালিবা (ফ্রান্স) | আর্সেনাল | ২ |
তথ্যসূত্র: France Football-এর প্রকাশিত ভোটের হিসাবের ভিত্তিতে AS, UEFA ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম।
AS USA+2
কেইনের ঐতিহাসিক অর্জন
২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর জয় হ্যারি কেইনের ক্যারিয়ারে একটি বিশেষ মাইলফলক। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে তিনি ২৫ বছর পর প্রথম ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে এই সম্মান অর্জন করেছেন। এর আগে ২০০১ সালে ইংল্যান্ডের মাইকেল ওয়েন ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন।
এবারের ভোটে কেইন ও এমবাপ্পের মধ্যে ২৮ পয়েন্টের ব্যবধান ব্যালন ডি’অরের ইতিহাসে সবচেয়ে কম ব্যবধানগুলোর অন্যতম। প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, এটি পুরস্কারটির ৭০ বছরের ইতিহাসে চতুর্থ সর্বনিম্ন ব্যবধান।
সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অরের ভোট প্রমাণ করেছে, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ভোটারদের মূল্যায়নও শেষ পর্যন্ত ফুটবলের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্বীকৃতির ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে।





