আজ বিশ্ব সুনামি সচেতনতা দিবস: দুর্যোগ মোকাবিলায় সচেতনতা ও আগাম সতর্কতার আহ্বান

আজ বিশ্ব সুনামি সচেতনতা দিবস: দুর্যোগ মোকাবিলায় সচেতনতা ও আগাম সতর্কতার আহ্বান
আজ বিশ্ব সুনামি সচেতনতা দিবস: প্রতিপাদ্য ও ইতিহাস

আজ ৫ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার বিশ্ব সুনামি সচেতনতা দিবস (World Tsunami Awareness Day)। সুনামির ভয়াবহতা সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা বৃদ্ধি, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা জোরদার এবং উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রতিবছর দিবসটি পালিত হয়।

সুনামি একটি ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ। সমুদ্রের তলদেশে ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত কিংবা ভূমিধসের কারণে সৃষ্ট বিশাল ঢেউ উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হেনে ব্যাপক প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতি ঘটাতে পারে। কয়েক মিনিটের মধ্যে একটি জনপদকে বিপর্যস্ত করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য: ‘সুনামির জন্য প্রস্তুত থাকুন, সহনশীলতা শুরু হোক আপনার থেকেই’

জাতিসংঘের দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসবিষয়ক কার্যালয় (UNDRR) ২০২৬ সালের বিশ্ব সুনামি সচেতনতা দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে— “Be Tsunami Ready: Resilience Starts With You”। বাংলায় যার অর্থ, ‘সুনামির জন্য প্রস্তুত থাকুন, সহনশীলতা শুরু হোক আপনার থেকেই।’

এ বছরের প্রতিপাদ্যে ব্যক্তিগত প্রস্তুতি, পারিবারিক পরিকল্পনা এবং সামাজিক সচেতনতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

কেন ৫ নভেম্বর বিশ্ব সুনামি সচেতনতা দিবস?

২০১৫ সালের ডিসেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ৫ নভেম্বরকে বিশ্ব সুনামি সচেতনতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। জাপানের উদ্যোগে দিবসটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়।

১৮৫৪ সালের ৫ নভেম্বর জাপানের ওয়াকায়ামা অঞ্চলে একটি ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর সুনামির আশঙ্কা দেখা দেয়। সে সময় ইনামুরা-নো-হি নামে পরিচিত এক ঐতিহাসিক ঘটনায় গোটা গ্রামকে সতর্ক করতে একজন ব্যক্তি নিজের ধানের গাদা জ্বালিয়ে সংকেত দেন। তাঁর সেই উদ্যোগে গ্রামবাসী দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে সক্ষম হন। এই ঘটনা থেকেই দিনটি নির্বাচনের ঐতিহাসিক প্রেরণা এসেছে।

সুনামি কেন এত ভয়াবহ?

সুনামি সাধারণ সমুদ্রের ঢেউ নয়। সমুদ্রের তলদেশে বড় ধরনের ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত কিংবা পানির নিচে ভূমিধসের কারণে বিপুল জলরাশি স্থানচ্যুত হয়ে সুনামির সৃষ্টি হতে পারে।

২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর ভারত মহাসাগরে সৃষ্ট ভয়াবহ সুনামিতে ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলঙ্কা, ভারত ও থাইল্যান্ডসহ একাধিক দেশের উপকূলীয় অঞ্চল বিপর্যস্ত হয়েছিল। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০০ বছরে ৫৮টি সুনামিতে ২ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

সুনামির আগাম সতর্কসংকেত

সুনামি আঘাত হানার আগে প্রকৃতিতে কয়েকটি অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা যেতে পারে:

1. উপকূলীয় এলাকায় শক্তিশালী অথবা দীর্ঘস্থায়ী ভূমিকম্প অনুভূত হওয়া।

2. সমুদ্রের পানি হঠাৎ অস্বাভাবিকভাবে সরে যাওয়া বা দ্রুত বেড়ে যাওয়া।

3. সমুদ্রের দিক থেকে অস্বাভাবিক গর্জন বা বিকট শব্দ শোনা।

4. সরকারি সতর্কবার্তা বা সুনামি সতর্কসংকেত পাওয়া।

এ ধরনের লক্ষণ দেখা গেলে সরকারি সতর্কবার্তার অপেক্ষায় সময় নষ্ট না করে দ্রুত উঁচু স্থানে অথবা সমুদ্র থেকে দূরে নিরাপদ এলাকায় চলে যেতে হবে।

বাংলাদেশে সুনামি সচেতনতার গুরুত্ব

বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক ও উপকূলীয় দেশ। বঙ্গোপসাগরসংলগ্ন বিস্তীর্ণ উপকূলীয় অঞ্চলে বিপুলসংখ্যক মানুষের বসবাস। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও অন্যান্য সামুদ্রিক দুর্যোগের পাশাপাশি সুনামির ঝুঁকি সম্পর্কেও জনসচেতনতা তৈরি করা জরুরি।

বিশেষ করে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলা, নোয়াখালী ও উপকূলীয় দ্বীপাঞ্চলে দুর্যোগ প্রস্তুতি, সতর্কবার্তা প্রচার, নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র এবং দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ।

সুনামি মোকাবিলায় করণীয়

  • উপকূলীয় এলাকায় বসবাসকারীদের স্থানীয় দুর্যোগ সতর্কবার্তা সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে।

  • পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে জরুরি যোগাযোগ ও নিরাপদ আশ্রয়ের পরিকল্পনা রাখতে হবে।

  • নিকটবর্তী উঁচু স্থান ও নিরাপদ সরিয়ে নেওয়ার পথ আগে থেকেই চিনে রাখতে হবে।

  • জরুরি খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ, টর্চলাইট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতে হবে।

  • সুনামির সতর্কসংকেত পেলে দ্রুত সমুদ্রতট ছেড়ে উঁচু স্থানে চলে যেতে হবে।

  • সরকারি নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত উপকূলে ফিরে যাওয়া যাবে না।

সচেতনতাই পারে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে এবং অসংখ্য মানুষের জীবন বাঁচাতে। বিশ্ব সুনামি সচেতনতা দিবসে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত প্রস্তুতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
সংবাদ প্রতিনিধি

নিজস্ব প্রতিবেদক

এই সংবাদটি The News-এর সংবাদ প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।