ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কার্ডধারী নিম্ন আয়ের পরিবারের মধ্যে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির জন্য আরও ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। স্থানীয়ভাবে জাতীয় উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে এই ডাল সংগ্রহ করা হবে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে প্রস্তাবটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের ভিত্তিতে মসুর ডাল কেনার এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাউন্টার গ্যারান্টির আওতায় মোট ৭৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে।
সর্বনিম্ন দরদাতার কাছ থেকে ডাল সংগ্রহ
সরকারি ক্রয় প্রস্তাব অনুযায়ী, ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল সংগ্রহের জন্য স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হলে চারটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দেয়। যাচাই-বাছাইয়ের পর চারটি দরপ্রস্তাবকেই কারিগরিভাবে গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
দরপত্রের পরবর্তী প্রক্রিয়া শেষে টেন্ডার ইভ্যালুয়েশন কমিটি (টিইসি) সর্বনিম্ন রেসপনসিভ দরদাতা হিসেবে খুলনার জয়তুন অটো রাইস অ্যান্ড ডাল মিলস লিমিটেডকে নির্বাচনের সুপারিশ করে।
টিইসির সুপারিশ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে টিসিবির গুদাম পর্যন্ত পরিবহন ব্যয়সহ প্রতি কেজি ৭৬ টাকা ৮৯ পয়সা দরে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনা হবে। এতে সরকারের মোট ব্যয় হবে প্রায় ৭৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।
চলতি অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ২০ হাজার টন
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে টিসিবির জন্য মোট ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এরই মধ্যে ১৭ হাজার ৫২৮ মেট্রিক টন মসুর ডাল সংগ্রহ করা হয়েছে। নতুন করে আরও ১০ হাজার মেট্রিক টন ডাল কেনা হলে টিসিবির মজুত আরও বাড়বে।
সংগৃহীত এসব মসুর ডাল পরবর্তী সময়ে টিসিবির কার্ডধারী নিম্ন আয়ের পরিবারের কাছে নির্ধারিত ভর্তুকি মূল্যে বিক্রি করা হবে।
সরকারের খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির আওতায় টিসিবি নিয়মিতভাবে নিম্ন আয়ের কার্ডধারী পরিবারগুলোর কাছে চাল, ডালসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ভর্তুকি মূল্যে বিক্রি করে থাকে। চলতি অর্থবছরে মসুর ডাল সংগ্রহের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণের অংশ হিসেবেই নতুন এই ক্রয় কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে।





