বাংলাদেশের ধর্মীয় সম্প্রীতিকে দেশের অন্যতম বড় সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, সব ধর্মের মানুষের পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে। তাঁর মতে, বিশ্বের অনেক বড় গণতান্ত্রিক দেশেও বাংলাদেশের মতো ধর্মীয় সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত দেখা যায় না।
শুক্রবার সকালে সিলেট সিটি করপোরেশনের সভাকক্ষে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভা ও অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে নগরীর ৮৫টি দুর্গাপূজামণ্ডপের প্রতিনিধিদের হাতে ৪০ হাজার টাকা করে মোট ৩৪ লাখ টাকা অনুদান তুলে দেন মন্ত্রী।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সব ধর্মের মানুষ যেন নির্বিঘ্নে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। পাশাপাশি সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নেও উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি জানান, সিলেটের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার আগে ও পরে তিনি বিভিন্ন মসজিদ, মন্দিরসহ ধর্মীয় উপাসনালয় পরিদর্শন করেছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধানে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক কাজ করছেন। দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপগুলোতে আর্থিক সহায়তা দেওয়ায় সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
সিলেট নগরীর উন্নয়ন পরিকল্পনা
নগরীর উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অগ্রগতি তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সিলেট সিটি করপোরেশনের ৪২টি ওয়ার্ডে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে সাড়ে ৫০০ কিলোমিটার সড়কের উন্নয়নকাজ শেষ হয়েছে। অবশিষ্ট সড়কগুলোর উন্নয়নে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এ ছাড়া সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতাধীন সড়কগুলোর উন্নয়নকাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ক্বিনব্রিজের পাশে সুরমা নদীর ওপর নতুন সেতু নির্মাণ এবং হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষের আবাসনের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে। নগরবাসীর বিশুদ্ধ পানির সংকট নিরসনে চেঙ্গেরখালের পানি শোধন করে সরবরাহের জন্যও বড় প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
নিরাপদে দুর্গাপূজা উদযাপনে প্রস্তুতি
অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপন নিশ্চিত করতে সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করছে। যেকোনো প্রয়োজনে পূজামণ্ডপ ও মন্দির কমিটির প্রতিনিধিদের সিটি করপোরেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান তিনি।
সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেডের পরিচালক বদরুজ্জামান সেলিম, রামকৃষ্ণ মিশন ও আশ্রমের অধ্যক্ষ স্বামী চন্দ্রনাথানন্দ মহারাজ, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি সুদীপ রঞ্জন সেন বাপ্পু এবং বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি মৃত্যুঞ্জয় ধর ভোলা।
সভায় ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা, দুর্গাপূজা উদযাপনে সহযোগিতা এবং নগরীর উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়।





