চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত সম্পর্ককে আরও গভীর করতে পারস্পরিক যোগাযোগ, আস্থা ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।
তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিনিধি দলের আসন্ন চীন সফর দুই দেশের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।
বৃহস্পতিবার চীনা দূতাবাস আয়োজিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিনিধি দলের সফরপূর্ব সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এটি দ্বিতীয় প্রতিনিধি দলের চীন সফর। সফরটি যেন কেবল আনুষ্ঠানিক বৈঠকের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। বরং চীনের সরকারি কর্মকর্তা, উদ্যোক্তা, শিক্ষাবিদ ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে দেশটির উন্নয়ন অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বাস্তব ধারণা অর্জন করতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছেন সফরকারীরা। তাই চীনকে বোঝার ক্ষেত্রে দেশটির সংস্কৃতি, প্রতিষ্ঠান ও মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়া জরুরি। কীভাবে দেশটি ব্যাপক অর্থনৈতিক ও সামাজিক রূপান্তর ঘটিয়েছে, তা অনুধাবনের চেষ্টা করতে হবে।
চীনের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা থেকে শেখার সুযোগ
জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন, প্রযুক্তির ব্যবহার, উদ্ভাবন এবং পরিকল্পনার কার্যকর বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে চীনের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বৈশ্বিক উৎপাদনে চীনের বড় অবদান দেশটির উন্নয়ন মডেলকে বাংলাদেশের জন্য শিক্ষণীয় করে তুলেছে।
বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সূচনা হয়। সময়ের সঙ্গে এ সম্পর্ক আরও বিস্তৃত ও গভীর হয়েছে। বর্তমানে তা সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্বে উন্নীত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক রূপান্তরের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনা, উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প গড়ে তোলা এবং তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যেতে পারে।
বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সহযোগিতা বাড়ানোর তাগিদ
দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ সহজ করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ইসমাইল জবিউল্লাহ বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য চীনের ই-ভিসা ব্যবস্থা চালু করার বিষয়টি তুলে ধরেন। পাশাপাশি দুই দেশের উদ্যোক্তাদের জন্য সালিশি সহায়তা এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ চীনের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে আগ্রহী। দুই দেশের বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতা ভবিষ্যতে উভয় দেশের জনগণের জন্য আরও বেশি সুফল বয়ে আনবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
চীনা দূতাবাস আয়োজিত অনুষ্ঠানে চীনের রাষ্ট্রদূত, দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিনিধি দলের সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।





