যশোরের চাঁচড়া ভাতুড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী শিপ্রা ঘোষের মৃত্যুর ঘটনায় শ্রীশ্রী দশ মহাবিদ্যা ইসকন মন্দিরের পুরোহিত অপার গোবিন্দ দাস ও তাঁর সহযোগীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মুসলিম হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটি।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ঢাকা থেকে যশোরের চাঁচড়ায় শিপ্রা ঘোষের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন। এ সময় তাঁরা শিপ্রার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি তোলেন।
মতবিনিময় সভায় স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। শিপ্রার ভাইসহ স্থানীয় বাসিন্দা এবং ফোরামের নেতারা বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, শিপ্রার মৃত্যুর ঘটনা কোনোভাবেই উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি বিষয় তদন্তের আওতায় এনে নিরপেক্ষভাবে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করতে হবে। একই সঙ্গে প্রকৃত দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
সভায় কয়েকজন বক্তা অপার গোবিন্দ দাসের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিও জানান। পাশাপাশি মন্দিরের বিভিন্ন কার্যক্রম ও অনুদান সংগ্রহের বিষয়ে ওঠা অভিযোগেরও তদন্ত দাবি করা হয়।
বক্তারা আরও বলেন, শিপ্রার অস্বাভাবিক মৃত্যুতে তারা গভীরভাবে মর্মাহত। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তারা।
এ সময় বাংলাদেশ মুসলিম হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য ফোরামের সভাপতি সুরঞ্জন ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক সনজিত কুমার দে, সহসভাপতি শ্যামল চক্রবর্তী, জ্যাকশন গোমেজ, আল আমিন, মো. হাবিব, মো. ইমরান, মো. জসিমসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
শিপ্রার মৃত্যু ঘিরে অভিযোগ ও মামলা
গত ১৮ সেপ্টেম্বর যশোরের চাঁচড়া বাজার মোড় এলাকার শ্রীশ্রী দশ মহাবিদ্যা ইসকন মন্দিরে শিপ্রার মা মীনা ঘোষের সঙ্গে মন্দির-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরোধের সূত্রপাত হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। মায়ের সাথে গোবিন্দ দাস দুর্ব্যবহার, এমনকি মারতে উদ্যত হন। এ সময় মেয়ে শিপ্রা প্রতিবাদ করলে তাকেও হেনস্তার শিকার হতে হয়। এই অপমান মানতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী শিপ্রা।
ওই ঘটনার সময় শিপ্রা প্রতিবাদ করেন এবং পরে তাঁকে হেনস্তা করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এরপর ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে মন্দির চত্বরের একটি কক্ষ থেকে শিপ্রার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটিকে ঘিরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের পক্ষ থেকে নানা অভিযোগ ওঠে এবং সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানো হয়।
এদিকে ২৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিপ্রার মৃত্যুর ঘটনায় ইসকনের আট সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করা হয়েছে। মামলায় অপার গোবিন্দ দাসসহ আটজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার অভিযোগগুলো তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাচাই হওয়ার বিষয়।
ঘটনাটি নিয়ে মানবাধিকার সংস্থা রাইটস যশোরও অভিযোগগুলো তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।





