পিতৃপক্ষ শুরু, পূর্বপুরুষের স্মরণে তর্পণ-শ্রাদ্ধের আয়োজন

পিতৃপক্ষ শুরু, পূর্বপুরুষের স্মরণে তর্পণ-শ্রাদ্ধের আয়োজন
পিতৃপক্ষ শুরু, পূর্বপুরুষদের স্মরণে তর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে পূর্বপুরুষদের স্মরণ ও শ্রদ্ধা নিবেদনের বিশেষ সময় পিতৃপক্ষ শুরু হয়েছে। পিতৃপক্ষ হলো প্রয়াত পূর্বপুরুষদের স্মরণ, শ্রদ্ধা ও তাঁদের উদ্দেশে জল নিবেদনের বিশেষ সময়। এই সময়ে তর্পণ করা হয় পূর্বপুরুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য। পিতৃপক্ষে তর্পণ হলো পূর্বপুরুষদের স্মরণ, তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং পিতৃঋণের কথা স্মরণ করার একটি প্রাচীন হিন্দু ধর্মীয় আচার।

২০২৬ সালে মূল তিথিভিত্তিক পিতৃপক্ষ ২৭ সেপ্টেম্বর, রবিবার প্রতিপদ শ্রাদ্ধের মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে ১০ অক্টোবর, শনিবার সর্বপিতৃ অমাবস্যা বা মহালয়া অমাবস্যায় শেষ হবে।

পিতৃপক্ষকে শ্রাদ্ধপক্ষ বা মহালয় পক্ষও বলা হয়। এ সময়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা প্রয়াত পিতা-মাতা, পিতামহ-পিতামহীসহ চৌদ্দ পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণ, শ্রাদ্ধ, পিণ্ডদান, প্রার্থনা ও দান করে থাকেন।

চৌদ্দ পূর্বপুরুষ হলোঃ- পিতা, মাতা, পিতামহ, পিতামহী, প্রপিতামহ, প্রপিতামহী, মাতামহ, মাতামহী, প্রমাতামহ, প্রমাতামহী,  বৃদ্ধপ্রমাতামহ, বৃদ্ধপ্রমাতামহী, শ্বশুর ও শাশুড়ি।

প্রচলিত ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, কোনো পূর্বপুরুষের মৃত্যুতিথি জানা থাকলে পিতৃপক্ষের সেই তিথিতে শ্রাদ্ধকর্ম সম্পন্ন করা হয়।

আজ ২৭ সেপ্টেম্বর, রবিবার প্রতিপদ শ্রাদ্ধ। তিথিভিত্তিক পঞ্জিকা অনুযায়ী আগামী দিনগুলোতে দ্বিতীয়া শ্রাদ্ধ, তৃতীয়া শ্রাদ্ধ ২৯ সেপ্টেম্বর, চতুর্থী ও পঞ্চমী ৩০ সেপ্টেম্বর, ষষ্ঠী ১ অক্টোবর, সপ্তমী ২ অক্টোবর, অষ্টমী ৩ অক্টোবর, নবমী ৪ অক্টোবর, দশমী ৫ অক্টোবর, একাদশী ৬ অক্টোবর, দ্বাদশী ৭ অক্টোবর, ত্রয়োদশী ৮ অক্টোবর এবং চতুর্দশী ৯ অক্টোবর পালিত হবে। ১০ অক্টোবর সর্বপিতৃ অমাবস্যা বা মহালয়া অমাবস্যা দিয়ে পিতৃপক্ষের সমাপ্তি হবে।

তবে পিতৃপক্ষের সূচনা নিয়ে পঞ্জিকাভেদে কিছু পার্থক্য রয়েছে। কয়েকটি পঞ্জিকায় ২৬ সেপ্টেম্বর পূর্ণিমা শ্রাদ্ধকে পিতৃপক্ষের প্রারম্ভিক শ্রাদ্ধ হিসেবে ধরা হয়েছে; অন্যদিকে মূল প্রতিপদ থেকে তিথিভিত্তিক পিতৃপক্ষ ২৭ সেপ্টেম্বর শুরু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, পিতৃপক্ষে পূর্বপুরুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ, তাঁদের উদ্দেশ্যে জল নিবেদন এবং শ্রাদ্ধকর্মের মাধ্যমে পিতৃঋণ স্মরণ করা হয়। বিশেষ করে পিতৃপক্ষের শেষ দিন মহালয়া অমাবস্যা পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণ ও শ্রাদ্ধের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত।

উল্লেখ্য, তর্পণ বা শ্রাদ্ধের সুনির্দিষ্ট সময় ও আচার স্থানীয় পঞ্জিকা, তিথি এবং পারিবারিক আচার-অনুষ্ঠান অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। তাই আচার পালনের ক্ষেত্রে স্থানীয় পুরোহিত বা স্বীকৃত পঞ্জিকার নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
সংবাদ প্রতিনিধি

বিশেষ প্রতিনিধি

এই সংবাদটি The News-এর সংবাদ প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।