নিজের জন্ম নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে পাসপোর্ট করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার উছমানপুর ব্রাহ্মণশাসন ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. আবু সাঈদ। তার অভিযোগ, তার জন্ম নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে ‘মো. মাকনুন’ নামে অন্য একজনের পাসপোর্ট করা হয়েছে। বিষয়টি জানতে পারেন পাসপোর্টের আবেদন করতে গিয়ে।
আবু সাঈদের পিতা মো. শফিকুর রহমান জানান, উছমানপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ইস্যু করা জন্ম নিবন্ধন সনদ ব্যবহার করে ছেলে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেন। গত ২৪ সেপ্টেম্বর আবেদন জমা দেওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ছবি দিতে গেলে সংশ্লিষ্টরা জানান, ওই জন্ম নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে ‘মো. মাকনুন’ নামে একটি পাসপোর্ট আগে থেকেই করা হয়েছে।
বিষয়টি সমাধানের জন্য আবু সাঈদ প্রায় এক সপ্তাহ সিলেট বিভাগীয় পাসপোর্ট কার্যালয়ে ঘোরাঘুরি করেন। পরে কার্যালয়ের উপপরিচালকের কাছে গেলে তাকে জানানো হয়, বিষয়টি পাসপোর্ট অফিসের নয়; এটি ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়।
এরপর আবু সাঈদ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নিজের ও মো. মাকনুনের জন্ম নিবন্ধনের ভেরিফিকেশন কপি সংগ্রহ করেন। নথিগুলোতে দেখা যায়, দুজনের জন্ম নিবন্ধন নম্বর ও নাম আলাদা।
শফিকুর রহমানের দাবি, নথি নিয়ে পাসপোর্ট কার্যালয়ে গেলে তাকে বলা হয়, আগে যাচাই না করেই পাসপোর্ট ইস্যু হয়ে থাকতে পারে। এ কারণে ভুলটি হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে থানায় সাধারণ ডায়েরি করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে ওই জন্ম নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে নতুন করে পাসপোর্ট করা সম্ভব নয় বলেও জানানো হয়।
শফিকুর রহমান বলেন, “এটা তো আমার ভুল না, আমি কেন এখন নতুন জন্ম নিবন্ধন করব বা আমার মূল ডকুমেন্ট কেন আমি ডুপ্লিকেট করব।”
ভুক্তভোগীর পরিবারের দেওয়া নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, মো. আবু সাঈদের জন্ম নিবন্ধন নম্বরের শেষ পাঁচ সংখ্যা ২৬৩৮৫। ওই সনদে তার বাবা-মায়ের নামও সঠিকভাবে উল্লেখ রয়েছে। উছমানপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ইস্যু করা সনদটির রেজিস্ট্রেশন তারিখ ৪ মার্চ ২০০৯।
অন্যদিকে একই নিবন্ধন কার্যালয়ের ১১৪৯০ নম্বর জন্ম নিবন্ধনে নাম রয়েছে মো. মাকনুনের। ওই সনদে তার বাবা-মায়ের নামও আলাদা এবং সনদটি ইস্যু করা হয়েছে ৬ এপ্রিল ২০০৯।
তবে নথি অনুযায়ী, আবু সাঈদের জন্ম নিবন্ধন নম্বর ২৬৩৮৫ ব্যবহার করেই মো. মাকনুনের নামে পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়েছে। সিলেট বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিস থেকে ইস্যু করা ওই পাসপোর্টের শেষ তিন সংখ্যা ১৯৩। পরবর্তীতে একই জন্ম নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে ৪২৭ নম্বরের আরেকটি পাসপোর্ট করা হয়েছে। এর প্রদানের তারিখ ৩০ জানুয়ারি ২০২৩ এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ ২৯ জানুয়ারি ২০২৮।
এ বিষয়ে উছমানপুর ইউনিয়ন পরিষদের গোবিন্দ চন্দ্র দেব বলেন, “আমাদের ইউনিয়ন থেকে কোনো সমস্যা নেই। দুইজনের দুই নম্বর আছে—যে কপি ইতিমধ্যে আমি ভুক্তভোগীর কাছে সরবরাহ করেছি। এটা কেন, কীভাবে হলো সেটি পাসপোর্ট অফিস বলতে পারবে।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে সিলেট বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের উপসহকারী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম পাটওয়ারী ও উপপরিচালক মোহাম্মদ নুরুল হুদার অফিসিয়াল নম্বরে একাধিকবার ফোন ও মেসেজ করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।





