ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয়ের মাস উল্লেখ করে এ সময়ে কোনো অপশক্তি দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে আনসার সদর দপ্তরের ফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে অস্থিরতার আশঙ্কা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ডিসেম্বর নিয়ে বারবার প্রশ্ন করার কারণ নেই। এটি বাংলাদেশের বিজয়ের মাস। তার বিশ্বাস, এ মাসে কোনো অপশক্তি অস্থিরতা সৃষ্টি করতে সক্ষম হবে না।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্য আগের সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে নাশকতার পরিকল্পনা করছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দায়িত্বে অবহেলা কিংবা অন্য কোনো অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্যের দায়িত্ব পালনে অবহেলার বিষয় নজরে এসেছে। তদন্তে যেসব বিষয় সামনে আসছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সদস্যদের শুধু দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করেই বিষয়টি শেষ করা হচ্ছে না। অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে মামলা বা অভিযোগ আনার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বিত অভিযান প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পুলিশ, বিজিবি, এসআরবিসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলো যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করবে। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে এ ধরনের সমন্বিত কার্যক্রম নিয়মিত কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে অব্যাহত থাকবে।
তিনি জানান, বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে আনসার ব্যাটালিয়নও অংশ নেবে। তবে নতুন কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গঠনের পরিকল্পনা সরকারের নেই।
আনসারের নতুন সদর দপ্তর
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আনসার সদর দপ্তর নির্মাণের জন্য তেজগাঁওয়ে প্রায় ৩ দশমিক ৪৫ একর বা ১১ বিঘা জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা অনুযায়ী পরিকল্পিত স্থানে আনসারের নিজস্ব সদর দপ্তর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
বর্তমানে খিলগাঁও থেকে আনসার সদর দপ্তরের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বাহিনীর আকারের তুলনায় সেখানে পর্যাপ্ত জায়গা নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ২০ হাজার ব্যাটালিয়ন আনসার ও প্রায় ৬০ হাজার অঙ্গীভূত আনসার সদস্য রয়েছেন। এর বাইরে বিপুলসংখ্যক প্রশিক্ষিত জনবল রয়েছে।
নিয়মিত ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্যরা সরকারি বিভিন্ন স্থাপনা ও মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেন। তাদের আবাসন সংকট সমাধানে নতুন সদর দপ্তরে কেন্দ্রীয়ভাবে দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের থাকার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি আশপাশের এলাকা ও শেরেবাংলা নগরে আবাসন সুবিধা তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী।
আনসার ব্যাটালিয়নের জন্য নতুন সদর দপ্তর নির্মাণের উদ্যোগকে ঐতিহাসিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং আনসার ব্যাটালিয়নের কার্যক্রম সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামেও আনসার বাহিনী দায়িত্ব পালন করেছে।
ঢাকার যানজট নিয়েও কথা
রাজধানীর যানজট পরিস্থিতি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যানজট নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশন, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। নির্মাণকাজ এবং ইউটিলিটি স্থানান্তরের ক্ষেত্রেও পরিকল্পিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, রাস্তা খননের ক্ষেত্রে এক অংশের কাজ শেষ করে দ্রুত সেটি পুনর্নির্মাণের পর অন্য অংশে কাজ করতে হবে। পুরো সড়ক একসঙ্গে খনন করে দীর্ঘ সময় ফেলে রাখা যাবে না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রাফিক মামলা প্রক্রিয়ার ব্যবস্থা চালুর ফলে সড়কে আইন মানার প্রবণতা বেড়েছে বলে জানান তিনি। এতে রাজধানীর সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলাও কিছুটা উন্নত হয়েছে।





