দুই লাখ টাকার বিনিময়ে কয়রা সাংবাদিক ফোরামের অফিসে হামলা!

দুই লাখ টাকার বিনিময়ে কয়রা সাংবাদিক ফোরামের অফিসে হামলা!
দুই লাখ টাকার বিনিময়ে কয়রা সাংবাদিক ফোরামের অফিসে হামলা!
খুলনার কয়রায় ভুয়া চিকিৎসক ও অননুমোদিত চিকিৎসা কার্যক্রম নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর কয়রা সাংবাদিক ফোরামের কার্যালয়ে হামলা এবং সংগঠনের ব্যানার-বিলবোর্ডে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে।
ফোরামের নেতৃবৃন্দের দাবি, সংবাদ প্রকাশ বন্ধ করতে কয়েকজনকে অর্থের বিনিময়ে ব্যবহার করে এ হামলা চালানো হয়েছে।
তাদের অভিযোগ, এ জন্য প্রায় দুই লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে। কয়রা উপজেলা পরিষদের সামনে সেবা ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত ফোরামের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার একাধিক দপ্তরে অভিযোগ করেছেন কয়রা সাংবাদিক ফোরামের নেতৃবৃন্দ।
কয়রা সাংবাদিক ফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান অভিযোগ করেন, স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ও কয়েকজন সাংবাদিকের নেতৃত্বে ১১ থেকে ১৫ জনের একটি দল কার্যালয়ে হামলা চালায়। এ সময় সংগঠনের ব্যানার ও বিলবোর্ডে আগুন দেওয়া হয়।
ফোরামের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, হামলার ঘটনায় কয়েকজন স্থানীয় কিছু ব্যক্তি ও সাংবাদিক জড়িত ছিলেন। তাদের মধ্যে  হারুন আর রশিদ, রিয়াসাত আলী, তরিকুল ইসলাম,  রউফ, জাহিদুর রহমান এবং আবু উবাইদা ছাড়াও আরও কয়েকজন ছিলেন বলে জানা গেছে।
কয়রা সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি তারিক লিটু বলেন, “কয়রায় ভুয়া চিকিৎসক ও অননুমোদিত চিকিৎসা কার্যক্রম নিয়ে আমরা একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছি। এসব প্রতিবেদন প্রকাশের কারণে সংশ্লিষ্ট ভুয়া পল্লী চিকিৎসকদের একটি পক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে সাংবাদিক ফোরামের বিরুদ্ধে একজোট হয়েছে। কয়েকজন ব্যক্তিকে দুই লাখ টাকার বিনিময়ে ব্যবহার করে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। হামলায় জড়িতদের পেছনে প্রায় দুই লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগও আমাদের কাছে এসেছে।”
তিনি আরও বলেন, “সাংবাদিকরা জনস্বার্থে অনিয়ম ও অসংগতির খবর প্রকাশ করবেন—এটাই স্বাভাবিক। সংবাদ প্রকাশ বন্ধ করতে হামলা, ভয়ভীতি বা অর্থের বিনিময়ে লোকজন ব্যবহার করা হলে তা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য উদ্বেগজনক। আমরা কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করে যাব।”
ফোরাম সূত্রে জানা যায়, হামলার আশঙ্কায় ঘটনার দুই দিন আগে কয়রা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল। জিডিতে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কার কথা জানিয়ে কার্যালয়ের নিরাপত্তায় পুলিশের সহযোগিতা চাওয়া হয়। ফোরামের অভিযোগ, জিডি করার পরও হামলা ঠেকাতে পুলিশের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
ফোরামের নেতৃবৃন্দ জানান, হামলার সময়ও পুলিশকে একাধিকবার ফোন করে সহযোগিতা চাওয়া হয়। তবে অভিযোগ, তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। পরে হামলাকারীরা সংগঠনের বিলবোর্ড ও কার্যালয়ে আগুন দেয়।
সম্প্রতি কয়রা উপজেলায় ভুয়া চিকিৎসক ও অননুমোদিত চিকিৎসা কার্যক্রম নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই একটি পক্ষ সংবাদ প্রকাশ বন্ধে চাপ সৃষ্টি করে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে বলে তাদের দাবি।এ ঘটনায় সাংবাদিকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ফোরামের নেতৃবৃন্দ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশেদুল আলম বলেন, “ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। হামলার বিষয়টি অনুসন্ধান করা হবে।”

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
সংবাদ প্রতিনিধি

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি

এই সংবাদটি The News-এর সংবাদ প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।