মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে সংঘর্ষ-অগ্নিসংযোগ, চার মামলায় আসামি প্রায় ১,০০০

মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে সংঘর্ষ-অগ্নিসংযোগ, চার মামলায় আসামি প্রায় ১,০০০
মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে সংঘর্ষ-অগ্নিসংযোগ, চার মামলায় আসামি প্রায় ১,০০০

রাজধানীর মিরপুর-১০ এলাকায় ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় চারটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে মিরপুর মডেল থানায় তিনটি এবং কাফরুল থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় মোট প্রায় এক হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) মিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাফিজুর রহমান জানান, তিনটি মামলার মধ্যে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় একটি, পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে পুলিশ বাদী হয়ে একটি এবং ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে আরও একটি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

অন্যদিকে কাফরুল থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, সিটি করপোরেশনের গাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হয়েছে। এতে ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানান তিনি।

যেভাবে সংঘর্ষের সূত্রপাত

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মিরপুর-১০ গোলচত্বর থেকে হোপ মার্কেটের দিকে ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলীর নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়।

অভিযানের একপর্যায়ে হোপ মার্কেটসংলগ্ন বায়তুল কুদ্দুস জামে মসজিদ মার্কেটের নিচে থাকা ভাসমান দোকান সরানোর সময় ভেকুর আঘাতে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে স্থানীয় দোকানি ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এতে মার্কেটের পাঁচটি দোকান পুড়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

আগুনের ঘটনার পর ক্ষুব্ধ হকার ও দোকানিরা সিটি করপোরেশনের কর্মীদের ওপর হামলা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের সঙ্গে হকারদের সংঘর্ষ বাধে। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপের জবাবে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। সংঘর্ষে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।

গাড়িতে আগুন, যান চলাচল বন্ধ

সংঘর্ষের সময় সিটি করপোরেশনের তিনটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। একই সময়ে পুলিশের একটি গাড়ির কাচ ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষের কারণে মিরপুর-১০ থেকে মিরপুর-১৪ নম্বর পর্যন্ত সড়কে কিছু সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে।

ঘটনার ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীও বাধার মুখে পড়েন।

পরে দুপুরের দিকে ডিএনসিসি আবারও উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে। এ সময় মিরপুর-১০ থেকে ১৩ নম্বর পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের ফুটপাতে থাকা ভাসমান দোকান উচ্ছেদ করা হয়।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে দুপুরে সেখানে যান ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম খান। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ও সিটি করপোরেশনের ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িগুলো পরিদর্শন করেন।

পরে তিনি বলেন, হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাটি পরিকল্পিত বলে মনে হচ্ছে। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করে তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
সংবাদ প্রতিনিধি

নিজস্ব প্রতিবেদক

এই সংবাদটি The News-এর সংবাদ প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।