শিক্ষকদের দলাদলি ও বিভাজনের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।
তিনি বলেন, শিক্ষকতা শুধু জীবিকা অর্জনের মাধ্যম নয়; এটি সম্মান, দায়িত্ব ও নৈতিকতার সঙ্গে যুক্ত একটি পেশা। তাই শিক্ষক পরিচয়ে কোনো ধরনের বিভাজন বা দলাদলিতে জড়ানো উচিত নয়।
মঙ্গলবার রাজধানীর তেজগাঁও কলেজে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত ঢাকা জেলা পর্যায়ের ‘আন্তঃকলেজ সাংস্কৃতিক ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সরকারের ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অধিভুক্ত কলেজগুলোর শিক্ষকদের উদ্দেশে উপাচার্য বলেন, শিক্ষকদের বিভাজন ও দলাদলি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমে সহযোগিতা করার পাশাপাশি গত ১৭ বছরের নানা অভিজ্ঞতা ও সংকট থেকে বেরিয়ে নতুনভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অধ্যাপক আমানুল্লাহ শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক, দক্ষতাভিত্তিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব করার ওপর গুরুত্ব দেন। এ জন্য ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস প্রোগ্রাম’, ‘ওয়ান স্টুডেন্ট, ওয়ান ট্রি’, ‘গ্রিন ক্যাম্পাস’, স্কিল এডুকেশন এবং সোলার প্যানেলভিত্তিক বিভিন্ন কর্মসূচিতে শিক্ষকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
শিক্ষকদের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়ে তিনি জানান, পিএইচডি স্কলারশিপের অর্থ ৪ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ফুল-টাইম ও পার্ট-টাইম এমফিল এবং গবেষণার সুযোগও সম্প্রসারিত করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ।
তেজগাঁও কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক শামীমা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কলেজের মিডিয়া অ্যান্ড থিয়েটার স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নওরীন সাজ্জাদ।
অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল-হোসেন, শারীরিক শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ শফিউল করিম, স্নাতকোত্তর শিক্ষা প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. ফকির রফিকুল আলম, স্নাতকপূর্ব শিক্ষা বিষয়ক স্কুলের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. আশেক কবির চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন কলেজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা জেলার ২৫টি কলেজের ৩৫৭ জন শিক্ষার্থী সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি ও বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। জেলা পর্যায়ে বিজয়ীরা পরবর্তী সময়ে বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।





