রাষ্ট্রপতির সঙ্গে জাপানের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে জাপানের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে জাপানের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিন-ইচি সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। মঙ্গলবার বঙ্গভবনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি অবকাঠামো, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, মানবসম্পদ উন্নয়ন, কৃষি, জ্বালানি এবং কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এসব তথ্য জানান।

সাক্ষাৎকালে জাপানের সম্রাট নারুহিতোর একটি অভিনন্দনবার্তা রাষ্ট্রপতির কাছে হস্তান্তর করেন রাষ্ট্রদূত সাইদা শিন-ইচি। সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়ে বাংলাদেশের জনগণের সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করেন সম্রাট নারুহিতো।

অভিনন্দনবার্তার জন্য সম্রাট নারুহিতোকে ধন্যবাদ জানান রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে জাপানের সম্রাট ও দেশটির জনগণের প্রতি শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি এবং সম্রাটের সুস্বাস্থ্য, কল্যাণ ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে জাপানের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার প্রশংসা করেন। বিশেষ করে ঢাকা মেট্রোরেল ও মেঘনা সেতুসহ বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্পে জাপানের সহায়তার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম দ্রুত শুরু হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। জবাবে জাপানের রাষ্ট্রদূত জানান, প্রকল্পটির কাজ দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ রয়েছে।

বাংলাদেশি জনশক্তির জন্য জাপানে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করায় রাষ্ট্রপতি জাপানকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষা ও জাপানি ভাষা শেখানোর জন্য বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাবনা বিবেচনার আহ্বান জানান। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য জাপানের বৃত্তি সুবিধা আরও সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে কৃষিপণ্য ও ফল-ফসল প্রক্রিয়াজাতকরণসহ বিভিন্ন খাতে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। জবাবে রাষ্ট্রদূত অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে জাপানের আগ্রহের কথা জানান।

এ সময় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা মোকাবিলা এবং বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও জানান রাষ্ট্রদূত।

রোহিঙ্গা সংকটে জাপানের মানবিক সহায়তার প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারের ওপর জাপানের অব্যাহত সমর্থন কামনা করেন।

বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক আরও জোরদারে রাষ্ট্রদূতের ভূমিকার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী অংশীদারিত্বে উন্নীত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিব এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব উপস্থিত ছিলেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
সংবাদ প্রতিনিধি

নিজস্ব প্রতিবেদক

এই সংবাদটি The News-এর সংবাদ প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।