সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে অনির্দিষ্টকালের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা

সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে অনির্দিষ্টকালের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা
সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে অনির্দিষ্টকালের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা
কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্তির দাবিতে আন্দোলনরত সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে কলেজের প্রশাসনিক কার্যক্রমও বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছেন তাঁরা।
দাবি বাস্তবায়নে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও কার্যকর প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বেলা আড়াইটার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। আন্দোলনের তৃতীয় দিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কলেজের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ফাহাদ ফয়সল ও তানভীর মাহমুদ।
শিক্ষার্থীরা বলেন, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত হওয়ায় সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির স্বকীয়তা, একাডেমিক পরিবেশ ও পেশাগত মানোন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। উচ্চশিক্ষায় বিদ্যমান দ্বৈত প্রশাসন ও দীর্ঘদিনের বৈষম্যের কারণে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলোতে আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষা ব্যাহত হচ্ছে বলেও দাবি করেন তাঁরা।
সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে মুক্ত করাই শিক্ষার্থীদের মূল দাবি। তাঁদের ভাষ্য, দীর্ঘ আন্দোলন, আমরণ অনশন এবং ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের পর ২০২৫ সালের ১৪ আগস্ট শিক্ষা উপদেষ্টার নির্দেশে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করা হয়।
শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা, ক্যাম্পাস পরিদর্শন এবং বিভিন্ন পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে ওই কমিটি সুপারিশভিত্তিক প্রতিবেদন তৈরি করে বলে জানান শিক্ষার্থীরা।
তাঁদের দাবি, ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি ওই সুপারিশ নিয়ে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণের সভায় সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ‘ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি, সাস্ট’ হিসেবে গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে এখনো এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কার্যকর কোনো প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি বলে অভিযোগ তাঁদের।
সম্প্রতি কলেজের একটি বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক পদে একজনকে দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের একাডেমিক ও গবেষণার পটভূমি ওই পদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে এ অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এর প্রতিবাদে গত রোববার শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করেন। ওই সময় প্রশাসনিক ভবনে অবস্থানরত শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে মানবিক দিক বিবেচনা করে শিক্ষকদের মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান তাঁরা।
শিক্ষার্থী তানভীর মাহমুদ বলেন, মানবিক দিক বিবেচনা করে শিক্ষকদের প্রশাসনিক ভবন থেকে মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। তবে তাঁরা এখনো ক্যাম্পাসে অবস্থান করছেন।
শিক্ষার্থীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১৪ জন শিক্ষক ক্যাম্পাসে অবস্থান করছেন। তাঁদের কেউ লাইব্রেরিতে এবং কেউ গেস্টহাউসে অবস্থান করছেন বলে জানান তাঁরা।
তানভীর মাহমুদ বলেন, কলেজ প্রতিষ্ঠার তিন বছর পর এটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের কথা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। গত ১৬ থেকে ১৭ বছরে শিক্ষার্থীরা নানা বৈষম্যের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, অন্যান্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করলেও সে অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না তাঁরা। একটি বিভাগে দায়িত্ব বণ্টন নিয়েও শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে বলে জানান তিনি।
শিক্ষার্থীরা বলেন, তাঁদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কার্যকর প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তাঁরা।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
সংবাদ প্রতিনিধি

মাহমুদ খান, সিলেট

এই সংবাদটি The News-এর সংবাদ প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।