স্থানীয় সরকার নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিযোগিতামূলক হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
আজ তথ্য অধিদফতরের সম্মেলনকক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হবে না। তবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থিত প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। ফলে নির্বাচনকে ঘিরে ব্যাপক অংশগ্রহণ থাকবে এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হবে।
নির্বাচনের সময়সূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সরকারের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সরকারের আলোচনার ভিত্তিতেই নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হবে। নির্বাচন কমিশন যে সময়সূচি ঘোষণা করেছে, প্রয়োজন হলে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে তা পরিবর্তন, পিছিয়ে দেওয়া কিংবা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের অনিশ্চয়তা নেই বলেও মন্তব্য করেন তথ্য উপদেষ্টা।
মানবতাবিরোধী অপরাধের রায় নিয়ে সরকারের অবস্থান
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, এ রায়ের সঙ্গে প্রতিশোধের কোনো সম্পর্ক নেই।
তিনি বলেন, সরকার আদালতের রায়কে স্বাগত জানায় এবং দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে চায়। বিভিন্ন মামলায় পলাতক ও দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগও সরকারের রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে স্বতন্ত্র সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠনের পরিকল্পনা
ভারতে অবস্থানরত আসামিদের ফেরত দেওয়ার বিষয়ে দেশটির সরকারের কাছ থেকে সহযোগিতা পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর মতে, পলাতক আসামিদের ফেরত দেওয়া বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে আরও সহজ ও স্বাভাবিক করার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতার ওপর গুরুত্ব
ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার সর্বাত্মকভাবে কাজ করছে জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, জনগণের মধ্যে পর্যাপ্ত সচেতনতা তৈরি না হলে ডেঙ্গুর মতো সংকট কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা কঠিন হবে।
ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতেও সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।
অবৈধ গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগের বিরুদ্ধে অভিযান
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, অবৈধ গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে দেশব্যাপী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
চলতি সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ১৩ দিনে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি (TGTDPLC) নিজস্ব জনবল দিয়ে ৭৪টি এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ১৩টি অভিযান পরিচালনা করেছে।
আরও পড়ুনঃ প্রয়োজন বেশি, সহায়তাও বেশি—বৃত্তি-উপবৃত্তিতে ‘ইকুইটি-বেসড’ ব্যবস্থা চান ববি হাজ্জাজ
এসব অভিযানে অবৈধ গ্যাস ব্যবহারের অভিযোগে ১ হাজার ১১৯টি আবাসিক, ছয়টি বাণিজ্যিক ও ১০টি শিল্প সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এ সময় ৪ হাজার ১০৯ ফুট অবৈধ পাইপলাইন উচ্ছেদ করা হয়। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আদায় করা হয়েছে ১১ লাখ ৩২ হাজার টাকা জরিমানা।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) একই সময়ে ৩৭৪টি অভিযান পরিচালনা করে ২৫৮টি অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে। এসব ঘটনায় ৫৭টি মামলা করা হয়েছে এবং জরিমানা আদায় হয়েছে ১ কোটি ৮২ লাখ টাকা।
অবৈধ গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানান তথ্য উপদেষ্টা।
ব্রিফিং অনুষ্ঠানে প্রধান তথ্য অফিসার সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (তথ্য ও গণযোগাযোগ) ড. মো. আলম মোস্তফা উপস্থিত ছিলেন।





