তিস্তা অববাহিকার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ, নদীভাঙন ও বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কমানো এবং এ অঞ্চলের টেকসই উন্নয়নে সরকার কার্যকর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে বিস্তারিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলছে। সমীক্ষার ফলাফল, কারিগরি দিক এবং স্থানীয় মানুষের চাহিদা ও স্বার্থ বিবেচনা করে দ্রুত উপযোগী প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।
বৃহস্পতিবার লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর খাল এবং কুলাঘাট ইউনিয়নে ধরলা নদীর তীরবর্তী ওয়াপদা বাঁধ এলাকা পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফরকে সামনে রেখে তিনি এসব এলাকা পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনের শুরুতে প্রতিমন্ত্রী মহেন্দ্রনগর খালের পুনঃখনন কার্যক্রমের স্থান ঘুরে দেখেন। পরে ধরলা নদীর ভাঙন থেকে লালমনিরহাট সদর উপজেলা শহর ও আশপাশের জনপদ রক্ষায় ২৯৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নেওয়া তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের সম্ভাব্য উদ্বোধনস্থল পরিদর্শন করেন। প্রকল্পটি সম্প্রতি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন পেয়েছে।
এ সময় প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়ন এবং গুণগত মান বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন তিনি।
ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, ধরলা নদীর ভাঙন থেকে লালমনিরহাটের জনপদ, মানুষের বসতভিটা, কৃষিজমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষা করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নদীভাঙনের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে সহায়ক হবে।
তিনি বলেন, নদীভাঙনের কারণে দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও বিভিন্ন স্থাপনা ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পরিকল্পিত তীর সংরক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে ঝুঁকি কমানো এবং জনপদ রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক করে বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ধরনের অবহেলা করা যাবে না। নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুসরণ করে কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে, যাতে দীর্ঘমেয়াদে মানুষ এর সুফল পেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, নদী ব্যবস্থাপনা ও তীর সংরক্ষণে স্থানীয় মানুষের প্রয়োজন, ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য এবং নদীর গতিপ্রকৃতি বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। টেকসই পরিকল্পনার মাধ্যমে নদীভাঙন ও বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কমানো গেলে মানুষের নিরাপত্তা বাড়বে এবং কৃষি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হবে।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার এ পরিকল্পনাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। বাস্তবায়নের আগে প্রয়োজনীয় কারিগরি বিশ্লেষণ ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন করা হচ্ছে, যাতে স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কার্যকর প্রকল্প নেওয়া যায়।
তিনি বলেন, তিস্তা অববাহিকার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, নদীভাঙন ও বন্যার ঝুঁকি হ্রাস এবং নদীকেন্দ্রিক সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের মতামত, বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ এবং স্থানীয় জনগণের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পরিদর্শনকালে লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক, জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী, স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী, প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।





