ঢাকা: শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি বিতর্ক, সাংস্কৃতিক চর্চা এবং বিভিন্ন সৃজনশীল কার্যক্রমে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেন, শুধু বিতর্ক প্রতিযোগিতা নয়, শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক দক্ষতা ও জ্ঞান বৃদ্ধিতে সহশিক্ষা কার্যক্রমের কোনো বিকল্প নেই।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘ডিইউডিএস-অ্যাকশনএইড জাতীয় বিতর্ক উৎসব ২০২৬’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. আবদুল মঈন খান বলেন, “আজকের শিক্ষার্থীরাই দেশের ভবিষ্যৎ পরিচালনা করবে। আগামী এক থেকে দুই দশকের মধ্যে তারাই রাজনীতি, সমাজনীতি ও অর্থনীতিসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন খাতের নেতৃত্ব দেবে। তাই এখন থেকেই নিজেদের উপযুক্ত হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তবে সহশিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত থাকলেও কোনো অবস্থাতেই মূল পড়াশোনাকে অবহেলা করা যাবে না।”
বিতর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, বিতর্ক শিক্ষার্থীদের যুক্তিবাদী চিন্তা, স্বাধীন মতামত প্রকাশ ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশ নিশ্চিত করে।
নিজের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের স্মৃতিচারণ করে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, প্রায় ষাট বছর আগে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলের শিক্ষার্থী হিসেবে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতেন এবং টানা তিন বছর হলের প্রতিনিধিত্ব করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিলেন।
ছাত্রসমাজের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া এবং ইতিবাচক পরিবর্তনের পেছনে শিক্ষার্থীদের বিশেষ শক্তি রয়েছে। এ দায়িত্ববোধকে দেশের কল্যাণে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি। একই সাথে জ্ঞান ও গবেষণার ওপর জোর দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবময় ঐতিহ্য ধরে রাখতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ স্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকার রাখার তাগিদ দেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি (DUDS) এবং অ্যাকশন-এইড বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী এই জাতীয় বিতর্ক উৎসবে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪টি দল অংশগ্রহণ করছে।





