ডাস্টবিন-ড্রেনেজ-গণশৌচাগার নেই, ভোগান্তিতে কামারখালী বাজার

ডাস্টবিন-ড্রেনেজ-গণশৌচাগার নেই, ভোগান্তিতে কামারখালী বাজার
ভোগান্তিতে কামারখালী বাজার

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার শত বছরের পুরোনো কামারখালী বাজারে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, কার্যকর ড্রেনেজ ও পর্যাপ্ত গণশৌচাগার না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা। সামান্য বৃষ্টি হলেই বাজারের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়ে।

মধুখালী উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে পুরোনো ফেরিঘাট পর্যন্ত প্রায় এক বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে গড়ে উঠেছে ঐতিহ্যবাহী এ বাজার। প্রতিদিনের বাজারের পাশাপাশি প্রতি শুক্র ও সোমবার এখানে নিয়মিত হাট বসে। সাপ্তাহিক হাটের দিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতাদের ব্যাপক সমাগম হয়।

কাঁচাবাজারের পাশাপাশি ফরিদপুরের বিভিন্ন উপজেলা এবং আশপাশের জেলার ব্যবসায়ীরাও ধান, পাট, চৈতালীসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য নিয়ে এ বাজারে আসেন। দীর্ঘ সময় বাজারে অবস্থান করতে হলেও পর্যাপ্ত গণশৌচাগার না থাকায় বিশেষ করে নারী, শিশু ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।

একজন নারী ক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শিশুদের নিয়ে বাজারে এলে শৌচাগারের প্রয়োজন হলে বেশ সমস্যায় পড়তে হয়। একবার বাধ্য হয়ে পাশের একটি বাড়িতে গিয়ে সমস্যার সমাধান করতে হয়েছে। এত পুরোনো একটি বাজারে এ ধরনের ব্যবস্থা থাকা উচিত নয়।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাজারে ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট কোনো স্থান নেই। ফলে যত্রতত্র বর্জ্য জমে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন করা যায় না। এতে বাজারের পরিবেশ যেমন নোংরা হচ্ছে, তেমনি ক্রেতা-বিক্রেতাদের চলাচলেও দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে।

কামারখালী বাজার বণিক সমিতির ক্যাশিয়ার রোকনুজ্জামান বলেন, ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে এসব সমস্যা সমাধানের জন্য বণিক সমিতির নেতাদের বারবার জানানো হয়েছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকেও একাধিকবার বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। তবে দীর্ঘদিনেও সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান হয়নি।

বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম মন্ডল বলেন, পুরোনো এই বাজারটির নিবন্ধনসংক্রান্ত কিছু জটিলতা রয়েছে এবং তা সমাধানের জন্য কাজ চলছে। তবে গণশৌচাগার, পয়োনিষ্কাশন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা বাজারটির জন্য অত্যন্ত জরুরি।

বণিক সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী মতিউল ইসলাম মুরাদ বলেন, বাজারে নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক আধুনিক টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু সুইপার না থাকায় সেটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা যাচ্ছে না। বাজারে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য ঝাড়ুদারও নেই। ফলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও ঠিকভাবে করা সম্ভব হচ্ছে না।

ড্রেনেজ সমস্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাজারের ভেতর দিয়ে রেলপথের কাজ চলমান থাকায় বর্তমানে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। রেলপথের কাজ শেষ হলে এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কামারখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রাকিব হোসেন চৌধুরী ইরান বলেন, নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু সুইপার না থাকায় সেগুলো সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা যাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, বাজারের ভেতর দিয়ে রেলপথ নির্মাণের কাজ এবং মধুমতি নদীর ওপর রেলসেতু নির্মাণ চলমান থাকায় বিভিন্ন ধরনের নির্মাণসামগ্রী ও মালামাল পরিবহন করতে হচ্ছে। বাজারে ড্রেন থাকলেও মাটি জমে সেগুলো দ্রুত ভরাট হয়ে যায়। কয়েকবার পরিষ্কার করা হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই আবার মাটি জমে যায়।

এ বিষয়ে মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান বলেন, কামারখালী বাজারের ব্যবস্থাপনা নিয়ে বণিক সমিতি ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে মধুখালী উপজেলার অন্যান্য বাজারগুলোর পরিস্থিতিও খোঁজ নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের দাবি, কামারখালী বাজারে দ্রুত স্বাস্থ্যসম্মত গণশৌচাগার চালু, নির্দিষ্ট বর্জ্য ফেলার স্থান নির্ধারণ, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই ধরনের সমস্যা মধুখালী উপজেলার অন্যান্য বাজারেও রয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

হারিয়ে যাচ্ছে পুরোনো দিনের কামারখালী

মধুমতি নদীর তীরে অবস্থিত কামারখালী বাজারের রয়েছে সমৃদ্ধ অতীত। একসময় বড় বড় নৌযান কামারখালী ঘাটে ভিড়ত। পাটের বড় বাজার হিসেবে এর পরিচিতি ছিল এবং বিভিন্ন বড় জুট মিলের ক্রয়কেন্দ্রও ছিল এখানে।

নদীপথে পণ্য পরিবহন ছিল তুলনামূলক সহজ ও সাশ্রয়ী। সময়ের পরিবর্তনে সেই ব্যস্ততা অনেকটাই হারিয়ে গেছে। ঐতিহ্যবাহী বাজারটির বর্তমান অবকাঠামোগত সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করে এর ঐতিহ্য ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব ফিরিয়ে আনার দাবি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
সংবাদ প্রতিনিধি

ফরিদপুর প্রতিনিধি

এই সংবাদটি The News-এর সংবাদ প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।