সিন্ধু পানি চুক্তি একতরফাভাবে স্থগিত করতে পারবে না ভারত: আন্তর্জাতিক আদালত

সিন্ধু পানি চুক্তি একতরফাভাবে স্থগিত করতে পারবে না ভারত: আন্তর্জাতিক আদালত
সিন্ধু পানি চুক্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতের এক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনায় এসেছে দুই দেশের পানি ব্যবস্থাপনা ও বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়টি।

নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক আদালতের সংশ্লিষ্ট প্যানেল জানিয়েছে, ভারত একতরফাভাবে সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত বা বাতিল করতে পারে না। একই সঙ্গে চুক্তির আওতায় আগে থেকে কার্যকর থাকা নিয়ম ও প্রক্রিয়াগুলোও বহাল থাকবে।

আদালতের সিদ্ধান্ত প্রকাশের পর পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

চুক্তি অনুযায়ী প্রকল্প পরিচালনার নির্দেশ

আদালতের প্যানেল সর্বসম্মতিক্রমে জানিয়েছে, সিন্ধু পানি চুক্তি কার্যকর রয়েছে। ফলে পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীগুলোর ওপর নতুন বিদ্যুৎ প্রকল্প গ্রহণ কিংবা কোনো বিরোধ দেখা দিলে ভারতকে চুক্তিতে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

বিশেষ করে পানি ব্যবস্থাপনা ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প সংক্রান্ত বিষয়ে একতরফা পদক্ষেপ নেওয়ার পরিবর্তে চুক্তির কাঠামোর মধ্যেই বিষয়গুলো নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আরএইচইপি বাঁধের নির্মাণে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা

রায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ভারতে চলমান আরএইচইপি বাঁধ প্রকল্প নিয়ে দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জুলাইয়ে বিশেষজ্ঞের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত প্রকল্পটির বাঁধের দেয়াল ও সংশ্লিষ্ট প্রধান কাঠামোর নির্ধারিত উচ্চতার ওপরে নতুন করে কংক্রিট ঢালাই বা নির্মাণকাজ করা যাবে না।

আরও পড়ুনঃ বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, রয়েছে নানা কর্মসূচি

বিশেষজ্ঞের সিদ্ধান্ত প্রকাশের পরও আরও ৯০ দিন এই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া প্রকল্পের নির্মাণকাজ কতটা এগিয়েছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে নিয়মিত আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া

আন্তর্জাতিক আদালতের এই সিদ্ধান্ত এবং নির্মাণকাজে দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন বিধিনিষেধকে পাকিস্তান তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখছে।

পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আদালতের পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্ত হাতে পাওয়ার পর তা বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হবে। দেশটির প্রত্যাশা, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সিন্ধু পানি চুক্তিকে ঘিরে বিদ্যমান আইনি বাধ্যবাধকতা আরও স্পষ্ট ও শক্তিশালী হবে।

আরও পড়ুনঃ ইসকন প্রতিষ্ঠাতা ভক্তিবেদান্ত স্বামী মহারাজের জন্মদিন আজ, জীবনী ও কর্মযজ্ঞ

একই সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে পানি বণ্টন সংক্রান্ত বিরোধগুলোর সমাধানের পথও উন্মুক্ত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে পাকিস্তান।

সিন্ধু নদীর পানি বণ্টন নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের বিরোধ বহুদিনের। দুই দেশের মধ্যে ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় Indus Waters Treaty (IWT) স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির আওতায় সিন্ধু অববাহিকার নদীগুলোর পানি ব্যবহারের অধিকার ও দায়িত্ব দুই দেশের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Brinda Chowdhury
লেখক / প্রতিবেদক

Brinda Chowdhury

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।