যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাত বন্ধে তিনটি প্রধান শর্ত দিয়েছে ইরান। কাতার ও পাকিস্তানের মাধ্যমে এসব প্রস্তাব ইতোমধ্যে ওয়াশিংটনের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান।
শনিবার এ বিষয়ে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মোহসিন রেজাই বলেন, এখন বিষয়টি অনেকটাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। তবে ইরানের এই প্রস্তাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ইরানের তিন শর্ত
ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, যুদ্ধ বন্ধের জন্য প্রথম শর্ত হলো—অবিলম্বে সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধ করতে হবে। বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে সামরিক তৎপরতা বন্ধের পাশাপাশি ইরানের মিত্র গোষ্ঠীগুলোকে ঘিরে আঞ্চলিক সংঘাত কমানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
দ্বিতীয় শর্ত হিসেবে ইরানের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বন্দর ও সমুদ্রপথে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আরোপিত বিধিনিষেধও তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তেহরান।
আরও পড়ুনঃ রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, সৌদি-হুথি সংঘাত আরও তীব্র
তৃতীয় শর্ত হলো বিদেশে থাকা ইরানের অর্থ ও সম্পদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার। ইরান দাবি করছে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় আটকে থাকা অর্থ ও সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ দিতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে তেহরান এ ধরনের সম্পদ অবমুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছে।
চাপের মুখে পিছু হটবে না তেহরান
মোহসিন রেজাইয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের শর্তগুলো মেনে নেওয়া হলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও তা লাভজনক হতে পারে। তবে সামরিক ও কূটনৈতিক চাপের মুখে তেহরান তার অবস্থান থেকে সরে আসবে না বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ নভেম্বরে ভারত সফর করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
কূটনৈতিক আলোচনা সফল না হলে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার জন্য ইরান প্রস্তুত—রেজাইয়ের বক্তব্যে এমন বার্তাও পাওয়া গেছে।
এখন ইরানের দেওয়া তিন শর্তের বিষয়ে ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষা। আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীরাও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। ইরানের প্রস্তাবের ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিক শান্তি আলোচনা শুরু করা সম্ভব হবে কি না, সেটিও আলোচনায় রয়েছে।
তবে সংঘাতের অবসানে কূটনৈতিক উদ্যোগ এগোবে, নাকি পরিস্থিতি আরও জটিল হবে—তা অনেকটাই নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী অবস্থানের ওপর।





