ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর সঙ্গে সৌদি আরবের চলমান সংঘাত আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। শনিবার সৌদি রাজধানী রিয়াদের বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলার সতর্কতা জারি হওয়ার পর বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। পরে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে কালো ধোঁয়া ও আগুনের দৃশ্য দেখা যায়।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, হুথিরা রিয়াদ লক্ষ্য করে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল, যা প্রতিহত করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের আরও কয়েকটি এলাকায় বেসামরিক ও অবকাঠামোগত স্থাপনায় হামলার চেষ্টা প্রতিহত করার দাবিও করেছে তারা।
এর আগে সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ রিয়াদসহ কয়েকটি এলাকায় সতর্কবার্তা পাঠিয়ে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে থাকার এবং খোলা জায়গা ও জানালা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেয়। পরে সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়।
হামলার দায় স্বীকার হুথিদের
হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, তাদের বাহিনী রিয়াদের কয়েকটি ‘গুরুত্বপূর্ণ’ স্থাপনা এবং লোহিত সাগরের উপকূলীয় শহর ইয়ানবুতে সৌদি তেল কোম্পানি অ্যারামকোর স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তাঁর দাবি, এসব অভিযানে ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ যুদ্ধ বন্ধে ইরানের তিন শর্ত, যুক্তরাষ্ট্রের জবাবের অপেক্ষা
হুথিদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের রাজধানী সানায় সৌদি হামলার জবাব হিসেবে এসব অভিযান চালানো হয়েছে। তবে হুথিদের হামলার সব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অ্যারামকোর পক্ষ থেকেও হামলার দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিমানবন্দরের কাছে আগুন ও ধোঁয়া
শনিবার সকালে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে একটি জ্বালানি সংরক্ষণ স্থাপনার এলাকায় আগুন দেখা যায়। ঘটনাস্থলে অগ্নিনির্বাপক কর্মীদের কাজ করতে দেখা গেছে এবং আকাশে কালো ধোঁয়ার বড় কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। এ ঘটনায় বিমান চলাচলেও বিঘ্নের খবর পাওয়া যায়।
আরও পড়ুনঃ নভেম্বরে ভারত সফর করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে রিয়াদে এ ধরনের সতর্কতা সাম্প্রতিক সংঘাত শুরুর পর প্রথমবার জারি করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
লোহিত সাগর ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা
রিয়াদে হামলার পাশাপাশি লোহিত সাগর ও ইয়েমেনের উপকূলীয় অঞ্চলেও সংঘাত বেড়েছে। হুথিরা লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালীর আশপাশে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর চেষ্টা করছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এই জলপথ বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সৌদি আরব সমর্থন করে। অন্যদিকে, হুথিরা দীর্ঘদিন ধরে ওই সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর কয়েক বছর তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতি থাকলেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আবারও সংঘাত তীব্র হয়েছে।
রিয়াদে সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযানের ফলে সৌদি আরব ও হুথিদের সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। একই সঙ্গে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ও সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো ঘিরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।





