প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থের অপচয় ও দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন। তাঁর দাবি, অনেক হাসপাতালে প্রয়োজনীয় জনবল ও প্রশিক্ষিত টেকনিশিয়ান না থাকলেও কোটি কোটি টাকার চিকিৎসা যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে। পরে সেগুলো ব্যবহার না করে ফেলে রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম।
জনবল ছাড়াই কেনা হয়েছে কোটি টাকার যন্ত্রপাতি
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতের সরকার প্রয়োজনের তুলনায় বেশি চিকিৎসা সরঞ্জাম কিনেছে। এসব কেনাকাটায় বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও অনেক ক্ষেত্রে সেগুলো ব্যবহারের মতো জনবল বা কারিগরি দক্ষতা ছিল না।
তাঁর ভাষায়, চিকিৎসক বা সংশ্লিষ্ট জনবল নেই, টেকনিশিয়ানও নেই—তারপরও কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে। ফলে অনেক সরঞ্জাম দীর্ঘদিন অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থেকে নষ্ট হয়েছে।
এখন এসব যন্ত্রপাতির অনেকগুলো ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ায় ভাঙারির কাছে বিক্রি করা ছাড়া উপায় থাকছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
স্বাস্থ্য খাতে জবাবদিহি নিশ্চিতের তাগিদ
স্বাস্থ্য খাতের প্রতিটি পর্যায়ে সততা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেন সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি বলেন, হাসপাতালে রোগীদের উন্নতমানের খাবার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের রোগীদের সঙ্গে মানবিক, আন্তরিক ও সৌজন্যপূর্ণ আচরণ করতে হবে।
স্বাস্থ্যসেবার গুণগত মান আরও উন্নত করার প্রয়োজন রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই খাতের প্রতিটি পর্যায়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কার্যকর করার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের নির্দেশ
মাদকের বিষয়ে কোনো ধরনের আপস করা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, শুধু মাদক ব্যবসায়ীদের নয়, যারা তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয় তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। কোনো ব্যক্তি জামিনে বের হওয়ার পর আবার মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডে জড়ালে প্রয়োজন অনুযায়ী তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করার উদ্যোগ নিতে হবে।
যেকোনো মূল্যে মাদকের বিস্তার বন্ধ করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, মাদক নির্মূলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
মানিকগঞ্জে মতবিনিময় সভা
জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম এবং জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীর এবং মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মঈনুল ইসলাম খান।



