বিশেষ প্রতিনিধি: রংপুরের কামাল কাছনা মাছুয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাসভবনে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণ শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারসহ চার সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবীরা। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং অপরাধীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির লক্ষ্যে অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
বুধবার(২ সেপ্টেম্বর) রাজধানী ঢাকার সুপ্রীম কোর্ট বার এসোসিয়েশন ভবনের সামনে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় সুপ্রীম কোর্টের প্রবীণ ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা একত্রিত হয়ে এই দাবি উত্থাপন করেন।
প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, অ্যাডভোকেট অনুপ কুমার সাহা, অ্যাডভোকেট জয়া ভট্টাচার্য, সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অরবিন্দ রায়, ব্যারিস্টার সুব্রত কুণ্ডু, অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম এবং ব্যারিস্টার সৌমিত্র সরদার।
প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, একজন প্রবীণ শিক্ষক, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, স্নাতকোত্তর পড়ুয়া কন্যা আগামী চক্রবর্তী এবং ১২ বছর বয়সী শিশু সন্তান আয়ুষ প্রিয়ম চক্রবর্তীকে ঘরে ঢুকে নৃশংসভাবে শ্বাসরোধ ও আঘাতের মাধ্যমে হত্যা করার ঘটনা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ও বরদাশতঅযোগ্য। এ ধরনের হত্যাকাণ্ড পুরো সমাজের নিরাপত্তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সুনিশ্চিত করতে সাধারণ পুলিশি তদন্তের পাশাপাশি একজন বর্তমান বা অবসরপ্রাপ্ত বিচারকের নেতৃত্বে বিচার বিভাগীয় তদন্ত হওয়া জরুরি। কোনো প্রভাবশালী বা স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী যেন এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে না পারে, সে বিষয়ে হুঁশিয়ারি দেন বিজ্ঞ আইনজীবীবৃন্দ।
উল্লেখ্য, এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রংপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং বর্তমানে তদন্ত কাজ পরিচালনা করছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এরই মধ্যে পুলিশ কয়েকজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করলেও বিজ্ঞ আইনজীবীরা ঘটনার পেছনে থাকা মূল পরিকল্পনাকারীদেরও অনতিবিলম্বে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।





