বিদেশে মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের সময়মতো কনস্যুলার ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার দাবিতে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব পালনে কথিত ব্যর্থতার বিষয়টি তুলে ধরে জনস্বার্থে দায়ের করা এ আবেদনে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও রুল জারির আবেদন জানানো হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং এফএম অ্যাসোসিয়েটসের পার্টনার অ্যাডভোকেট তাসমিয়াহ নুহিয়া আহমেদ নিজেই আবেদনকারী হিসেবে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দায়ের করেন। সৌদি আরবে গত ১৪ অক্টোবর দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনও আবেদনে গুরুত্ব পেয়েছে।
রিটে বিবাদী করা হয়েছে পররাষ্ট্রসচিব, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক, সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, জেদ্দায় বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল এবং সংশ্লিষ্ট শ্রমকল্যাণ উইংয়ের প্রধানকে।
সংবিধানের তিন অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ
আবেদনে জানতে চাওয়া হয়েছে, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সহায়তা যথাসময়ে দিতে বিবাদীদের কথিত ব্যর্থতা কেন বেআইনি এবং সংবিধানের ২৭, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের সঙ্গে অসংগত ঘোষণা করা হবে না। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাঁদের আইনগত দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হবে না কেন— সে বিষয়ে রুল জারির আবেদন করা হয়েছে।
৭২ ঘণ্টার মধ্যে বিদেশি মিশনে নির্দেশনা পাঠানোর আবেদন
রিটে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের সব মিশনে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাঠানোর আদেশ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
প্রস্তাবিত নির্দেশনায় মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের মামলাগুলো জরুরি ভিত্তিতে পর্যালোচনা, আপিল ও ক্ষমার আবেদনের সময়সীমা শনাক্তকরণ, সংশ্লিষ্ট মামলার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নির্ধারণ এবং আইনসম্মত কনস্যুলার যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
১৪ দিনের মধ্যে হলফনামা চাওয়ার আবেদন
সৌদি আরবে আলোচিত দুই বাংলাদেশির মামলায় সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে কী ধরনের নথি ছিল এবং তাঁদের সহায়তায় কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, তা ব্যাখ্যা করে ১৪ দিনের মধ্যে হলফনামা দাখিলের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়েছে, বিদেশে আটক ব্যক্তিদের পরিবারের পক্ষে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আর্থিক সামর্থ্যের অভাব, ভাষাগত সমস্যা এবং আইনজীবী পাওয়ার জটিলতা অনেক সময় পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তোলে। এ ধরনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের সক্রিয় ও সময়োপযোগী ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
সরকারি পদক্ষেপের নথিভিত্তিক পর্যালোচনার দাবি
রিটে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া কূটনৈতিক উদ্যোগের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব উদ্যোগ যথাসময়ে নেওয়া হয়েছিল কি না, তা সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের ভিত্তিতে যাচাই করার আবেদন জানিয়েছেন রিটকারী।
এ ছাড়া সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা ব্যক্তিদের পরিচয়, মামলার বিবরণ এবং তাঁদের জন্য বাস্তবে কী ধরনের কনস্যুলার সহায়তা দেওয়া হয়েছিল, তা সরকারি নথির মাধ্যমে নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।
আবেদনে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে, চাওয়া প্রতিকার বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সম্পর্কিত। এ বিষয়ে কোনো বিদেশি রাষ্ট্র বা বিদেশি আদালতের বিরুদ্ধে আদেশ দেওয়ার আবেদন করা হয়নি।





