ক্যান্সার চিকিৎসায় পরমাণু প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে বাংলাদেশের অঙ্গীকার

ক্যান্সার চিকিৎসায় পরমাণু প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে বাংলাদেশের অঙ্গীকার
বাংলাদেশে সমন্বিত ও টেকসই ক্যান্সার চিকিৎসাব্যবস্থা গড়ে তোলার অঙ্গীকার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রীর

বাংলাদেশে ক্যান্সারের ক্রমবর্ধমান প্রকোপ মোকাবিলায় পরমাণু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ প্রয়োগের মাধ্যমে একটি সমন্বিত, ন্যায়সংগত ও দীর্ঘমেয়াদি ক্যান্সার চিকিৎসাব্যবস্থা গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) আয়োজিত ‘Rays of Hope: Delivering on the Promise of Cancer Care’ শীর্ষক বৈজ্ঞানিক ফোরাম-২০২৬-এ বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ অঙ্গীকারের কথা জানান।

বক্তব্যের শুরুতে ‘Rays of Hope: Cancer Care for All’ উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে আইএইএ-এর মহাপরিচালক রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসি এবং সংস্থাটির সচিবালয়ের নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান মন্ত্রী।

ফকির মাহবুব আনাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকার পরমাণু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের মাধ্যমে দেশে বাড়তে থাকা ক্যান্সারের বোঝা মোকাবিলায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এর মাধ্যমে সবার জন্য সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (SDG) ৩ নম্বর লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ ভূমিকা রাখতে চায়।

তিনি বলেন, একটি টেকসই ক্যান্সার চিকিৎসাব্যবস্থা গড়ে তুলতে শুধু আধুনিক যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো থাকলেই হবে না। ক্যান্সার প্রতিরোধ, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, নির্ভুল রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা, দক্ষ জনবল, মান নিয়ন্ত্রণ এবং প্যালিয়েটিভ কেয়ারের সমন্বয়ে রোগীকেন্দ্রিক একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।

মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ২০২৫ সালে ‘Rays of Hope’ উদ্যোগের অংশীদার হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে এ অংশীদারিত্বের সুফলকে কার্যকর কর্মসূচিতে রূপ দিতে আইএইএ-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে সরকার।

তিনি বলেন, এই সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো একটি সমন্বিত ওয়ান-স্টপ ক্যান্সার কেয়ার সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা। এর মাধ্যমে একই ব্যবস্থার আওতায় আরও সহজলভ্য, সমন্বিত এবং রোগীকেন্দ্রিক ক্যান্সার চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

আইএইএ-এর কারিগরি সহযোগিতার প্রশংসা করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী বলেন, দক্ষতা বৃদ্ধি, জ্ঞান বিনিময় এবং দীর্ঘমেয়াদি ক্যান্সার চিকিৎসাব্যবস্থা শক্তিশালী করতে সংস্থাটির সহায়তা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি জানান, আগামী নভেম্বর ২০২৬-এ অনুষ্ঠিতব্য IAEA–WHO–IMPACT Review Mission-এর দিকে বাংলাদেশ আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে আছে। এ মিশনের মাধ্যমে দেশের জাতীয় ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতার প্রমাণভিত্তিক মূল্যায়ন করা এবং ক্যান্সার চিকিৎসার বিভিন্ন পর্যায়ে বাস্তবসম্মত অগ্রাধিকার নির্ধারণের সুযোগ তৈরি হবে।

ফকির মাহবুব আনাম আরও বলেন, ক্যান্সার চিকিৎসার পাশাপাশি গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমকে এগিয়ে নেওয়াও বাংলাদেশের অগ্রাধিকার। শিক্ষার্থী, বিজ্ঞানী ও গবেষকদের জন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, ফেলোশিপ এবং যৌথ গবেষণার সুযোগ বাড়াতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি বলেন, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং জ্ঞানভিত্তিক আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলা পরমাণু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সুফল সমাজের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে দীর্ঘমেয়াদে পৌঁছে দেওয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী বলেন, আইএইএ এবং এর অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার মাধ্যমে ‘Rays of Hope’ উদ্যোগের লক্ষ্যকে বাংলাদেশের মানুষের জন্য বাস্তব, সহজলভ্য ও দীর্ঘস্থায়ী ক্যান্সার চিকিৎসাসেবায় রূপান্তর করতে বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে কাজ করবে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Brinda Chowdhury
সংবাদ প্রতিনিধি

Brinda Chowdhury

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।