বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘদিনের সুদৃঢ় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে স্বাস্থ্য খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণ করতে চায় বাংলাদেশ। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসা শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা, রোগ প্রতিরোধ এবং চিকিৎসা সামগ্রী উৎপাদনে চীনের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) চীনের হাইনান প্রদেশের বোআও ল্যেছেং আন্তর্জাতিক মেডিকেল ট্যুরিজম পাইলট জোনে হাইনান প্রদেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন।
বৈঠকে হাইনান প্রাদেশিক কমিউনিস্ট পার্টি কমিটির সম্পাদক ফেং ফেই এবং ভাইস গভর্নর শিয়ে জিং উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সরকার প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ২০টি বড় হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব হাসপাতাল নির্মাণ ও পরিচালনায় চীনের কারিগরি সহযোগিতা এবং প্রশিক্ষণ প্রত্যাশা করছে বাংলাদেশ।
বৈঠকে বাংলাদেশি মেডিকেল শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি, দুই দেশের চিকিৎসকদের মধ্যে বিনিময় কর্মসূচি, চিকিৎসা শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, উষ্ণমণ্ডলীয় রোগ প্রতিরোধ এবং ট্র্যাডিশনাল চাইনিজ মেডিসিনে সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হয়।
এ সময় স্তন ক্যানসারের মতো অসংক্রামক রোগের পাশাপাশি হাম, ডেঙ্গু ও থ্যালাসেমিয়াসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশের উদ্যোগ এবং বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ নিয়েও আলোচনা হয়।
স্বাস্থ্য খাতে চীনা বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, গ্লাভস, মাস্ক, ব্লাড ব্যাগসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী উৎপাদনে হাইনানভিত্তিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে কারখানা স্থাপন করতে পারে। স্থানীয়ভাবে এসব পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অতিরিক্ত উৎপাদিত পণ্য বিদেশে রপ্তানির সুযোগও তৈরি হবে।
বৈঠকে হাইনানের কর্মকর্তারা বাংলাদেশি চিকিৎসকদের সফর, চিকিৎসা শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে স্বাস্থ্য খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদার ও সম্প্রসারণের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে।
বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর একান্ত সচিব এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব ফাতিমা-তুজ-জোহরা ঠাকুর, চীনে বাংলাদেশ দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর মোঃ জিয়াউর রহমান এবং মালিশা গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক মারুফ মোল্লা।





