নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে বিএফএসএর কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে বিএফএসএর কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে
নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে বিএফএসএর কার্যক্রম

দেশের মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা হবে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম।

তিনি বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সরকারের একক দায়িত্ব নয়। এ ক্ষেত্রে উৎপাদক, ব্যবসায়ী, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, ভোক্তা এবং অন্যান্য অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে সাধারণ মানুষের সচেতনতা বাড়াতে আরও ব্যাপক কর্মসূচি নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

ঢাকায় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে খাদ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আফরোজা খানম বলেন, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একটি দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্থতা অনেকটাই নির্ভর করে তারা কী ধরনের খাদ্য গ্রহণ করছে তার ওপর। তাই নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি সুস্থ ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের মান পরীক্ষায় পাওয়া তথ্যগুলো নিরাপদ খাদ্যের বিষয়ে আরও সতর্ক হওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে। বিশেষ করে শিশুদের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে অভিভাবকদের সচেতন করতে হবে। প্যাকেটজাত খাবার ও পানীয় সম্পর্কে ভোক্তাদের সঠিক তথ্য দেওয়ার পাশাপাশি এসব পণ্যের মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরির কার্যক্রম শুধু সীমিত পরিসরে রাখলে হবে না; তা দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে হবে। বর্তমানে বিভাগীয় পর্যায়ে থাকা আটটি মোবাইল ল্যাব পর্যাপ্ত নয় উল্লেখ করে তিনি পর্যায়ক্রমে দেশের ৬৪ জেলায় মোবাইল ল্যাব চালুর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

তিনি জানান, মোবাইল ল্যাবের মাধ্যমে ঘটনাস্থলেই খাদ্যপণ্যের প্রাথমিক পরীক্ষা করা সম্ভব হবে। এতে সন্দেহজনক বা নিম্নমানের খাদ্যপণ্য দ্রুত শনাক্ত করা যাবে এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে।

বিএফএসএর নিজস্ব ল্যাবরেটরি ভবন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ল্যাবরেটরি পরিচালনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ব্যয় হচ্ছে। নিজস্ব অবকাঠামো তৈরি করা গেলে দীর্ঘমেয়াদে সরকারের ব্যয় কমানোর পাশাপাশি আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন একটি মানসম্মত খাদ্য পরীক্ষাগার গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

এ জন্য উপযুক্ত জায়গা নির্ধারণ, প্রকল্প গ্রহণ ও অর্থায়নসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে খাদ্যপণ্যের নমুনা পরীক্ষায় অতিরিক্ত সময় লাগার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানান। আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন এবং পরীক্ষার সক্ষমতা বাড়িয়ে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য ফল নিশ্চিত করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন দাবির বিষয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, তাদের উত্থাপিত দাবিগুলোর যৌক্তিকতা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে এসব সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিদেশে প্রশিক্ষণ ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাওয়া কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য সরকার বিভিন্ন সুযোগ দিচ্ছে। প্রশিক্ষণ ও উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দেশে ফিরে জনগণের কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে।

সভায় বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সচিব শ্রাবস্তী রায় স্বাগত বক্তব্য দেন। এতে সভাপতিত্ব করেন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম। কর্মকর্তাদের মধ্যে তায়েফ আলী এবং কর্মচারীদের পক্ষে নূরন নবী বক্তব্য দেন। সভায় কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে খাদ্যমন্ত্রী বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের মিনি ল্যাব বা মোবাইল ভ্যান এবং ল্যাবরেটরি পরিদর্শন করেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট ল্যাব অপারেটররা মন্ত্রীকে মিনি ল্যাব ও ল্যাবরেটরির কার্যক্রম এবং খাদ্যপণ্যের নমুনা পরীক্ষার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
সংবাদ প্রতিনিধি

পিআইডি

এই সংবাদটি The News-এর সংবাদ প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।