চলন্ত বাসেই সন্তানের জন্ম, পরিবহনের নাম অনুসারে ‘আনাস হাসান’, আজীবন ফ্রি যাতায়াত

চলন্ত বাসেই সন্তানের জন্ম, পরিবহনের নাম অনুসারে ‘আনাস হাসান’, আজীবন ফ্রি যাতায়াত
চলন্ত বাসেই সন্তানের জন্ম, পরিবহনের নাম অনুসারে ‘আনাস হাসান’, আজীবন ফ্রি যাতায়াত

সাভারের জিরানীতে একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত আবেদা বেগম (২৮) সন্তান প্রসবের নির্ধারিত সময়ের প্রায় ২০ দিন আগে বাবা-মায়ের সঙ্গে লালমনিরহাটের গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন।

ঢাকা থেকে বুড়িমারীগামী ‘আনাস এন্টারপ্রাইজ’ বাসে যাত্রাপথে হঠাৎ তার প্রসববেদনা শুরু হয়। পরে বাসের পুরুষ যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে নারী যাত্রীদের সহযোগিতায় বাসের মধ্যেই একটি ছেলেসন্তানের জন্ম দেন তিনি।

ঘটনাটি ঘটে রংপুরের মিঠাপুকুর এলাকায় গত শনিবার ভোররাতে। ওই সময় বাসে থাকা এক ধাত্রীর সহায়তায় নিরাপদে সন্তান প্রসব করেন আবেদা। মা ও নবজাতক সুস্থ থাকায় পরে বাসের যাত্রীদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নবজাতকের জন্ম হয়েছে ‘আনাস এন্টারপ্রাইজ’ বাসে। এ কারণে পরিবহনের নামের সঙ্গে মিল রেখে শিশুটির নাম রাখা হয়েছে ‘আনাস হাসান’।

এদিকে ঘটনাটি জানার পর পরিবহনটির মালিক আলহাজ্ব দিপু নবজাতকের জন্য বিশেষ উপহারের ব্যবস্থা করেন। গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বাসটির সুপারভাইজার মজনু মিয়ার মাধ্যমে শিশুটির পরিবারের কাছে একটি দোলনা, বেবি বেড, মশারি ও প্রসাধনী সামগ্রী পাঠানো হয়। একই সঙ্গে শিশুটি আজীবন ওই পরিবহনের বাসে বিনামূল্যে যাতায়াত করতে পারবে বলেও ঘোষণা দেওয়া হয়।

প্রসূতি আবেদা বেগম লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ফকিরপাড়া ইউনিয়নের রমনীগঞ্জ গ্রামের আবেদ আলীর মেয়ে। তিনি বাবা-মায়ের সঙ্গে ঢাকার জিরানীতে বসবাস করে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন।

আবেদা বেগম বলেন, ‘সব কিছু আল্লাহর ইচ্ছা। কথা ছিল বাবার বাড়িতে সন্তানের জন্ম হবে। তা না হয়ে পথেই জন্ম হলো। আল্লাহপাক যা করেন, তার মধ্যে মঙ্গল আছে।’ তিনি নিজের ও নবজাতকের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, আবেদ আলী স্ত্রী, মেয়ে ও নাতিকে নিয়ে লালমনিরহাটের গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন। চিকিৎসকের দেওয়া সম্ভাব্য প্রসবের সময় অনুযায়ী তখনও প্রায় ২০ দিন বাকি ছিল। তবে পথেই তার মেয়ের প্রসববেদনা শুরু হয় এবং বাসের মধ্যেই দ্বিতীয় ছেলেসন্তানের জন্ম হয়।

বাসটির সুপারভাইজার মজনু মিয়া বলেন, ঢাকার জিরানী থেকে বাবা-মায়ের সঙ্গে ওই অন্তঃসত্ত্বা নারী বাসে ওঠেন। রাত ৩টার দিকে মিঠাপুকুর এলাকায় পৌঁছালে তার প্রসববেদনা শুরু হয়। পরে বাসে থাকা এক ধাত্রীর সহায়তায় সন্তান প্রসব করানো হয়। বিষয়টি পরিবহনের মালিককে জানালে তিনি শিশুটির জন্য আজীবন বিনামূল্যে বাসে যাতায়াতের ঘোষণা দেন।

নবজাতকের নানা আবেদ আলী বলেন, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আরও প্রায় ২০ দিন পর সন্তান জন্ম নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পথে বাসের মধ্যেই নাতির জন্ম হয়। বর্তমানে মেয়ে ও নাতি দুজনেই সুস্থ আছেন। বাসে জন্ম নেওয়ায় পরিবহনের নামের সঙ্গে মিল রেখে নাতির নাম ‘আনাস হাসান’ রাখা হয়েছে।

ফকিরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজল রহমান খোকন জানান, ইউপি সদস্যের মাধ্যমে তিনি ঘটনাটি জানতে পেরেছেন। বর্তমানে প্রসূতি ও তার সন্তান আনাস হাসান সুস্থ রয়েছেন।

ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর নবজাতক ও তার মাকে দেখতে রমনীগঞ্জ গ্রামের বাড়িতে স্থানীয়দের ভিড় জমছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
সংবাদ প্রতিনিধি

স্টাফ রিপোর্টার

এই সংবাদটি The News-এর সংবাদ প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।