যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার শিমুলিয়া পূর্বপাড়া গ্রামের আশিক মোড়ল। মাত্র ৩১ বছর বয়সেই দুই কিডনি বিকল হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থেকে ঢাকার শ্যামলীর সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতাল (সিকেডি অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতাল) এ চিকিৎসাধীন রয়েছে।
নিয়মিত ডায়ালাইসিসের মাধ্যমে কোনোভাবে চলছে তার জীবন। চিকিৎসকরা দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দিয়েছেন। এজন্য প্রয়োজন প্রায় ২০ লাখ টাকা। কিন্তু অসচ্ছল পরিবারের পক্ষে এই বিপুল অর্থ জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই জীবন বাঁচাতে সমাজের সামর্থ্যবান ও হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন আশিকের পরিবার।
আশিক মোড়ল শিমুলিয়া গ্রামের মো. শওকত আলীর ছেলে। মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। নিজের উপার্জনে পরিবারকে নিয়ে স্বাভাবিক জীবন কাটাচ্ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ শারীরিক নানা সমস্যা দেখা দিলে হাসপাতালে নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। সেখানে ধরা পড়ে, তার দুই কিডনিই বিকল হয়ে গেছে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী বর্তমানে আশিককে সপ্তাহে দুইবার ডায়ালাইসিস করাতে হচ্ছে। প্রতিনিয়ত চিকিৎসা ও ডায়ালাইসিসের ব্যয় মেটাতে গিয়ে পরিবারটির আর্থিক অবস্থা ভেঙে পড়েছে। চিকিৎসার জন্য পরিবারের যা কিছু ছিল, এরই মধ্যে প্রায় শেষ হয়ে গেছে। এখন নিয়মিত ডায়ালাইসিসের খরচ জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
আশিকের বাবা মো. শওকত আলী বলেন, আমার ছেলের চিকিৎসা চালাতে গিয়ে পরিবারের যা কিছু ছিল, তা প্রায় শেষ হয়ে গেছে। আমার কোনো সম্পদও নেই। এখন নিয়মিত ডায়ালাইসিসের খরচ জোগানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। চিকিৎসকরা দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপনের কথা বলেছেন। কিন্তু এত টাকা আমার একার পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, আমার ছেলের এক বছর ১১ মাস বয়সী একটি সন্তান রয়েছে। ছেলেটি বাঁচতে চায়। সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষগুলো যদি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন, তাহলে হয়তো আমার ছেলেকে চিকিৎসার মাধ্যমে বাঁচানোর সুযোগ তৈরি হবে।
একই গ্রামের বাসিন্দা ও ঝিকরগাছা বাজরের বাসস্ট্যান্ড এলাকার ব্যবসায়ী মো. হাফিজুর রহমান হাফিজ বলেন, আশিকের পরিবারের তেমন কোনো সম্পদ নেই। তাদের বসতভিটা ছাড়া উল্লেখযোগ্য কিছু নেই। চিকিৎসার মতো বড় ব্যয় বহন করা পরিবারের পক্ষে সম্ভব নয়।
সামর্থ্যবান মানুষ এগিয়ে এলে আশিকের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সহজ হবে। দুই কিডনি বিকল হওয়ার পর থেকে প্রতিটি দিনই আশিকের জন্য নতুন এক লড়াই। নিয়মিত ডায়ালাইসিসের পাশাপাশি তার প্রয়োজন কিডনি প্রতিস্থাপন। কিন্তু অর্থের অভাবে সেই চিকিৎসা কতটা এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পরিবার।
একদিকে ৩১ বছরের একজন মানুষের বাঁচার আকুতি, অন্যদিকে তার এক বছর ১১ মাস বয়সী সন্তানের ভবিষ্যৎ। সব মিলিয়ে অসহায় পরিবারটি এখন মানুষের সহযোগিতার অপেক্ষায়।
একটি পরিবারকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে দিতে সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষ এগিয়ে আসবেন এমন প্রত্যাশা আশিকের পরিবারের। আশিকের চিকিৎসায় সহযোগিতা করতে চাইলে তার বাবা মো. শওকত আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন মোবাইল নং ০১৭৩২-১৮৮৬২০।





