দেশে চাহিদার চেয়ে বেশি খাদ্য মজুত রয়েছে: খাদ্যমন্ত্রী

দেশে চাহিদার চেয়ে বেশি খাদ্য মজুত রয়েছে: খাদ্যমন্ত্রী
দেশে চাহিদার চেয়ে বেশি খাদ্য মজুত রয়েছে: খাদ্যমন্ত্রী

দেশে জনগণের চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম এমপি। তিনি বলেন, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত মজুতের পাশাপাশি সঠিক সংরক্ষণ, দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও সময়মতো সরবরাহ বজায় রাখা জরুরি।

চট্টগ্রাম জেটি ও সাইলো পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, আসন্ন রমজানে খাদ্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, অপচয় কমানো এবং সরকারি সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের চাহিদা, গুদামভিত্তিক খাদ্য মজুত ও সরবরাহ সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, খাদ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিতরণের প্রতিটি ধাপে সমন্বয় নিশ্চিত করা গেলে সময়ক্ষেপণ, পরিবহন ব্যয় এবং খাদ্য অপচয় কমানো সম্ভব হবে।

রমজানে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আগাম প্রস্তুতি

আসন্ন রমজানে খাদ্যপণ্যের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আফরোজা খানম বলেন, পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত থাকায় এ সময়ে সরবরাহে সংকট হবে না বলে তিনি আশাবাদী। তবে বাড়তি চাহিদা, পরিবহন ব্যয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা বিবেচনায় রেখে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, খাদ্যপণ্যের সম্ভাব্য চাহিদা নির্ধারণ, আমদানি ও অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিবন্ধকতা দ্রুত দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সংকটসহ বিভিন্ন কারণে মূল্যবৃদ্ধির চাপ তৈরি হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

জনগণের ক্রয়ক্ষমতা ও স্বার্থ বিবেচনায় রেখে বাজারে খাদ্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার কাজ করছে বলে জানান মন্ত্রী।

খাদ্য সংরক্ষণ ও গুদাম ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব

আমদানি কার্যক্রমের জটিলতা নিরসন এবং নির্ধারিত সময়ে খাদ্য দেশে পৌঁছানো নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে আফরোজা খানম বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে। পাশাপাশি খাদ্য বিভাগের জনবল সংকট ও প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা দূর করতে বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

চট্টগ্রাম জেটি ও সাইলো পরিদর্শন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিদ্যমান অবকাঠামোর কার্যকারিতা, প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং খাদ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা সরেজমিনে পর্যালোচনা করা হয়েছে। চিহ্নিত সমস্যাগুলো সমাধানে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, গুদামগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, মজুত খাদ্যের গুণগত মান পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে হবে। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত স্থাপনাগুলো পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী করার পাশাপাশি গুদামভিত্তিক মজুতের সঠিক হিসাব, নিয়মিত পরিদর্শন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাও জরুরি।

পরিদর্শন শেষে খাদ্যমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে খাদ্য সংরক্ষণের সক্ষমতা বাড়ানো, অপচয় কমানো এবং সরবরাহ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা দূর করা সম্ভব হবে।

পরিদর্শন ও উদ্বোধনকালে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, খাদ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া খাদ্যমন্ত্রী দেওয়ানহাট সিএসডির গুদাম পরিদর্শন করেন এবং হালিশহর সিএসডির সম্মেলন কক্ষ উদ্বোধন করেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
সংবাদ প্রতিনিধি

নিজস্ব প্রতিবেদক

এই সংবাদটি The News-এর সংবাদ প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।