রাজধানীতে সাম্প্রতিক অগ্নিসংযোগ, বিস্ফোরণ ও সহিংসতার ঘটনার পর নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, ফ্লাইওভার, প্রবেশ ও বহির্গমনপথে চেকপোস্ট বসিয়ে সন্দেহজনক ব্যক্তি ও যানবাহনে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রমও বাড়ানো হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের গোপন তৎপরতার বিষয়ে পাওয়া তথ্যের পর গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনা এবং রাজধানীর নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় বিভিন্ন সংস্থা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা ও সহিংসতার ঘটনায় শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মদদ এবং অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের বিষয়গুলো গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার সম্ভাব্য চেষ্টা মোকাবিলায় যৌথ অভিযানসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা চলছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের পক্ষ থেকেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জননিরাপত্তা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও ইন্ধনদাতাদের বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পোশাকধারী পুলিশ এবং গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছে। এসব অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলেও জানান তিনি।
ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী বলেন, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, ফ্লাইওভার ও প্রবেশপথে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। নিয়মিত চেকপোস্ট ও টহল কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে ডিএমপির পাশাপাশি স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে। সংস্থাটির লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এমজেডএম ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, রাজধানীজুড়ে ৪০টির বেশি চেকপোস্ট এবং ২১টি টহল দল দায়িত্ব পালন করছে।
তিনি আরও জানান, সাদা পোশাকে গোয়েন্দা ও আভিযানিক দল মাঠে কাজ করছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফরমেও নজরদারি চালানো হচ্ছে।
নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে সন্দেহজনক ব্যক্তি ও যানবাহনে তল্লাশির পাশাপাশি মোটরসাইকেল চলাচলের ওপরও বাড়তি নজর রাখা হচ্ছে।





