অর্থনৈতিক প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ বিরুপাক্ষ পাল চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি-জুন) জন্য ঘোষিত মুদ্রানীতিতে পুঁজিবাজারের জন্য যথেষ্ট প্রণোদনা রয়েছে বলে মনে করছেন।
তিনি জানান, নীতি সুদহার বলে পরিচিত রেপো ও রিভার্স রেপোর হার কমানোর ফলে শেয়ারবাজার চাঙ্গা হওয়ার যথেষ্ট সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের জন্য মুদ্রানীতি ঘোষণাকালে তিনি এসব কথা জানান।
তিনি বলেন, শেয়ার বাজারের দায়দায়িত্ব সাধারণত কেন্দ্রীয় ব্যাংক নেয় না। ওয়ালস্ট্রিটের দায়িত্ব ফেডারেল রিজার্ভ নেয় নি। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগুলো শেয়ার বাজারকে সরাসরি প্রভাবিত করে। এবারের নীতিগুলো শেয়ারবাজারকে উজ্জীবিত করবে বলে আমার বিশ্বাস।
পরে তার বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী বলেন, কিছুদিন আগে মিউচ্যুয়াল ফান্ডে ব্যাংকের বিনিয়োগের প্রভিশন সংরক্ষণ নীতিমালা সহজ করা হয়েছে, যা বাজারে স্বাচ্ছন্দ্যভাব ফিরিয়ে এনেছে। বিকল্প বিনিয়োগ তহবিল বা সমজাতীয় তহবিলে ব্যাংকের দুইশ’ কোটি টাকা বিনিয়োগ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ হিসাব থেকে আলাদা রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকের ‘সাবসিডিয়ারি’ প্রতিষ্ঠানের দেওয়া মূলধন ঋণ পুঁজিবাজার বিনিয়োগের হিসাবের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। এর ফলে শেয়ারবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগের যথেষ্ট সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তিনি আরো জানান, এ তিনটি সুবিধা দেওয়ার ফলে আগামী জুনের মধ্যে পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ সীমার মধ্যে নিয়ে আসার যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে তা অনেকটাই পূরণ হয়েছে। দু-একটি ব্যাংক ছাড়া বাকিগুলোর বিনিয়োগ জুনের মধ্যেই নির্ধারিত সীমায় চলে আসছে। একইসঙ্গে ব্যাংকের নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করছে। এসব মিলিয়ে এ মুদ্রানীতিকে আমরা পুঁজিবাজারবান্ধব বলে মনে করছি।