মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলায় এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে তার মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওই শিক্ষার্থীর বাবা গত শনিবার শ্রীনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় জনগণের মাঝে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগী শিশুটির নাম আখি আক্তার (৯)। সে উপজেলার বিরতারা ইউনিয়নের মজিদপুর দয়হাটা এলাকার বাগে নুরানিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে বীরতারা ইউনিয়নের মজুদপুর দয়হাটা গ্রামের আলমগীর হোসেনের মেয়ে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ জুলাই মাদ্রাসার শিক্ষক সাফায়েত পড়া না পারার অজুহাতে আখিকে কাঠের লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। এ সময় মাদ্রাসা শিক্ষকরা তাকে বিষয়টি পরিবারের কাউকে জানাতে নিষেধ করেন। তারা শিশুটিকে হুমকি দেয় যদি পরিবারের লোকজন বিষয়টি জানে তাহলে তাকে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেওয়া হবে।
ঘটনার একদিন পর তীব্র ব্যথায় শিশুটি কাতর হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনাটি সে জানায়। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তার মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
শিশুটির বাবা মো. আলমগীর খান জানান, ঘটনার বিষয়ে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক তোফাজ্জল হুজুরের কাছে অভিযোগ করলে তিনি বিষয়টি চেপে যেতে বলেন। তবে মেয়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় স্থানীয়দের সঙ্গে পরামর্শ করে শনিবার শ্রীনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষকদের শাস্তির দাবিতে শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে শ্রীনগর থানার ওসি জুয়েল মিয়া বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত চলছে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।