পপ মিউজিকে এক নতুন স্বাদ দিয়েছে কোরিয়ান বয় ব্যান্ড বিটিএস। সরল কথা, মায়াবী সুর, অনবদ্য গায়কী আর দলীয় নৃত্য- সব মিলিয়ে বিশ্ব সঙ্গীতের সেনসেশনে পরিণত হয়েছে বেশ আগেই।
জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে বিটিএসের ঝুলিতে অর্জন এসেছে ভুরি ভুরি। তবে গানের দলটি এবার নিলো এক বড় পদক্ষেপ!
বিশ্ব সঙ্গীতের সবচেয়ে বড় সম্মান ‘গ্র্যামি পুরস্কার’-এ আর গান জমা না দেয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে বিটিএস। দলটির এই ঘোষণার পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড় উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে বিটিএস জানিয়েছে, সংগীতকে অঞ্চল বা ভাষার ভিত্তিতে ভাগ না করে তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য দিয়ে গ্রহণ করা উচিত। এরপরই ব্যান্ডটির ভক্তগোষ্ঠী আর্মি সক্রিয় হয়ে ওঠে।
ভক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিটিএসের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়ে ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছেন। ‘আমরা বিটিএসের পাশে আছি’ ও ‘বিটিএস নিয়ে গর্বিত’- এমন বার্তা দিয়ে তৈরি হ্যাশট্যাগগুলোয় ভরে গেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন মাধ্যম।
ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের রেকর্ডিং একাডেমির নতুন ‘এশিয়ান পপ’ বিভাগ নিয়ে আপত্তির কারণেই গ্র্যামিতে গান জমা না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিটিএস। বিটিএসের এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়েছে গান শোনার ক্ষেত্রেও।
ব্যান্ডটির পঞ্চম স্টুডিও অ্যালবাম ‘অ্যারিরাং’-এর গান ‘এলিয়েনস’ বিশ্বের ৭৮টি দেশ ও অঞ্চলের আইটিউনস গানের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে। গানটিতে বিশ্বসংগীতের মঞ্চে কোরীয় শিল্পী হিসেবে বিটিএসের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে।
ভিন্নতাকে গ্রহণ করা ও নিজেদের পথ নিজেরাই তৈরি করার বার্তা রয়েছে গানটির কথায়। গ্র্যামি নিয়ে বিটিএসের অবস্থানের সঙ্গে গানের বক্তব্যের মিল থাকায় ভক্তদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
বিটিএসের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন সংগীত ও চলচ্চিত্র অঙ্গনের পরিচিত মুখেরাও। তবে বিটিএসের ঘোষণার পর নতুন এশিয়ান পপ বিভাগ নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের রেকর্ডিং একাডেমি।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী হার্ভি মেসন জুনিয়র বলেছেন, নতুন বিভাগ চালুর উদ্দেশ্য এশিয়ার শিল্পীদের স্বীকৃতি বাড়ানো, তাদের আলাদা করে রাখা নয়।