জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তারা দেশের মালিক নন, বরং তারা ১৮ কোটি জনগণের প্রকৃত সেবক বলে মন্তব্য করেছেন ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, এমপি। সরকারি পদে বা দায়িত্বে থেকে নিজেকে মালিক মনে করার মানসিকতা পরিহার করে, জনগণের সেবার মানসিকতা নিয়ে কাজ করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি।
গতকাল চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নে বন্যাকবলিত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে পুনর্বাসন ও ত্রাণ সামগ্রী বিতরণকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (ZRF)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দেড় শতাধিক পরিবারের মাঝে গৃহনির্মাণ সামগ্রী, চাল, ধানবীজ, সার ও কীটনাশক বিতরণ করা হয়।
প্রতিকূল পরিবেশেও মানবসেবায় বিএনপি
বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উল্লেখ করেন, বিগত ১৯ বছর নানা রাজনৈতিক হামলা, মামলা, নির্যাতন ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েও বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে থেকেছেন। নিজেদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক উদ্যোগকে দেশের কল্যাণে ও একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠনে কাজে লাগানো সবচেয়ে বড় সওয়াবের কাজ বলে তিনি অভিহিত করেন।
বন্যা মোকাবিলায় সরকারের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ
সাম্প্রতিক বন্যায় সরকারের গৃহীত নানামুখী পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় বন্যার শুরু থেকেই দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার।
জরুরি আশ্রয় ও খাদ্য: ভারী বর্ষণ ও বন্যা শুরুর পর থেকেই দ্রুত নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করা এবং জরুরি ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
পার্বত্য অঞ্চলে তাৎক্ষণিক সহায়তা: প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে প্রতিমন্ত্রী নিজে এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও চট্টগ্রাম জেলার দুর্গত এলাকায় অবস্থান করে সরকারি ত্রাণ ভাণ্ডার থেকে নগদ অর্থ ও খাদ্য সাহায্য বিতরণ নিশ্চিত করেছেন।
প্রাণহানি হ্রাসে আশ্রয়কেন্দ্রের ভূমিকা: দুর্যোগ মোকাবেলায় সেনাবাহিনী, বিজিবি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরলস ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে পূর্বে গড়ে তোলা সাইক্লোন সেন্টার ও আশ্রয়কেন্দ্রের কারণে এবার প্রাণহানি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
সামাজিক উদ্যোগ ও দারিদ্র্য বিমোচনে নতুন দিকনির্দেশনা
ব্যক্তিগত ও সামাজিক উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরে মীর হেলাল বলেন, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের মতো সামাজিক ও সেবামূলক সংগঠনগুলো এগিয়ে এলে সরকারের ওপর একক নির্ভরতা অনেকটাই কমে আসবে। সমাজের বিত্তবানরা অযথা অপচয় না করে অর্জিত অর্থের একটি ছোট অংশও যদি সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পেছনে ব্যয় করেন, তবে দেশ থেকে দারিদ্র্য দ্রুত দূর হবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত না হওয়া পর্যন্ত সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। প্রজাতন্ত্রের সকল কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সেবকদের উদ্দেশ্য করে তিনি আহ্বান জানান—প্রশাসন ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমনভাবে কাজ করতে হবে যাতে দেশের সাধারণ জনগণ বাস্তবে অনুধাবন করতে পারেন যে তারা দেশের প্রজা নন, বরং এই রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক।