ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে মাঠে নামছে ২০ পরিবীক্ষণ টিম

ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে মাঠে নামছে ২০ পরিবীক্ষণ টিম
ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে মাঠে নামছে ২০ পরিবীক্ষণ টিম

ঢাকা মহানগরীকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য করে তুলতে গঠিত ২০টি বিশেষ পরিবীক্ষণ টিমকে কঠোরভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

তিনি বলেন, সরকারি বাসস্থানে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ কিংবা এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ফ্ল্যাটের বরাদ্দ বাতিল করা হবে। একই সঙ্গে নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের জরিমানা আরোপ করা হবে।

আজ বিকেল ৩টায় তেজগাঁও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে ঢাকা মহানগরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণবিষয়ক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকা শহরকে বাসযোগ্য করতে প্রধানমন্ত্রী শুরু থেকেই গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন। তিনি নিজে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল ও আবাসিক কোয়ার্টারের পরিবেশ পরিদর্শন করেছেন। কিন্তু এসব জায়গার অনেকগুলোতে এডিস মশার লার্ভা এবং পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে গুরুতর অবহেলার চিত্র পাওয়া গেছে।

পরিবীক্ষণ টিমের সদস্যদের উদ্দেশে মীর শাহে আলম বলেন, তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি হিসেবে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। কোথাও অনিয়ম বা এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি জরিমানা করতে হবে।

সরকারি কর্মচারীদের আবাসিক কোয়ার্টার পরিষ্কার রাখার বিষয়ে কঠোর অবস্থান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারি বাসস্থান পরিচ্ছন্ন রাখতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের সেখানে থাকার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হবে।

২০টি টিম সমন্বিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করলে আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যেই ঢাকার পরিবেশে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ঢাকা মহানগরীর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা ২০টি কমিটির সদস্যরা অংশ নেন।

ঢাকার সৌন্দর্য ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, হাতিরঝিল, ধানমন্ডি, বনানী ও গুলশান লেকের পরিচ্ছন্নতা ফিরিয়ে আনতে রাজউক ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কাজ করছে।

এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৯টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৬টি খাল পুনঃখনন, গাইড ওয়াল নির্মাণ ও নেটিংয়ের কাজ চলমান রয়েছে।

চুরি হয়ে যাওয়ার কারণে প্লাস্টিক ও লোহার ডাস্টবিনের পরিবর্তে ফাইবার বোর্ড দিয়ে নতুন ডাস্টবিন তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। পর্যায়ক্রমে দুই সিটি করপোরেশন এসব ডাস্টবিন স্থাপন করবে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন প্রতিটি আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের এলাকা অনুযায়ী মোট ২০টি জোনে বিশেষ পরিবীক্ষণ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১০টি এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১০টি কমিটি কাজ করবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তারা এসব জোনাল কমিটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
সংবাদ প্রতিনিধি

নিজস্ব প্রতিবেদক

এই সংবাদটি The News-এর সংবাদ প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।